পঞ্চগড় জেলা শহরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রোববার রাত ১০টার দিকে শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শুরু হওয়া একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ বাধে।
একপর্যায়ে দুই পক্ষই লাঠিসোঁটা নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেয় এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রধান সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। আহতরা হলেন—রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), আব্দুল বাতেন (৪০), শামীম (২৮), জীবন (২২), সাফাত কবির (২১), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী চৌধুরী (৩৮)। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চারজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ। ওই সভায় বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়। সকালের সেই উত্তেজনার জের ধরেই রাতে দুই পক্ষের সমর্থকরা সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
পঞ্চগড় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শইমী ইমতিয়াজ জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে শহরের পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
kalprakash.com/IM