সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ ও ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি অভিযোগ করেন, এত উচ্চপর্যায়ের একটি পদের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা তার ছিল না।
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার নিয়োগ কোনো বিস্ময়ের বিষয় ছিল না। বিশ্বাসযোগ্য কোনো যোগ্যতা ও দক্ষতা না থাকা সত্ত্বেও কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে হওয়ার কারণেই তাকে প্রভাব খাটিয়ে এ পদে বসানো হয়েছিল।
সায়মা ওয়াজেদকে ডব্লিউএইচও-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য লজ্জার বিষয় হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার দায়িত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও গভীর যাচাই-বাছাই ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। সংস্থায় এমন মানুষের দায়িত্ব পাওয়া দরকার, যারা যথার্থ নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো প্রার্থীকে বাংলাদেশ সমর্থন জানাবে। এ প্রসঙ্গে তিনি মালদ্বীপের এক প্রার্থীর দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, তার শক্তিশালী রেকর্ড ও গ্রহণযোগ্য যোগ্যতা রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে সংস্থাটি উপযুক্ত নেতৃত্বের হাতে পরিচালিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিবার বা শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাউকে নিয়োগ দেওয়া সমীচীন নয়। যেকোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির মাধ্যমে হওয়া নিয়োগ শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে চলে আসে।
এদিকে দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ ফেরত আনার বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও বাংলাদেশের এ বিষয়ে কার্যকর অংশীদারত্ব রয়েছে। পাশাপাশি পাচারের তথ্য উদঘাটনে ফরেনসিক সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের লুণ্ঠিত সম্পদ ও পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করতে সরকার অবিচলভাবে কাজ করে যাবে, যাতে সেই অর্থ বিদেশে না থেকে দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়।
kalprakash.com/IM