চট্টগ্রামের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকের অধিকার, নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিএসও হাবের আয়োজনে এবং ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘সাপোর্টিং দ্য ইউনিটি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি অব সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনস (সিএসওস) টু আপহোল্ড হিউম্যান রাইটস, ন্যাশনাল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড রুল অব ল ইন বাংলাদেশ (সুশীল)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক অংশীজন সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। সুশীল প্রকল্পটি মূলত নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানবাধিকার, জবাবদিহিতা ও নীতিগত সংলাপে অংশগ্রহণ জোরদারে কাজ করছে।
সভায় সুশীল প্রকল্পের অধীনে চট্টগ্রামের ৩০টি তৈরি পোশাক কারখানা ও ২০০ জন নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণে পরিচালিত এক মূল্যায়নের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০টি কারখানা প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন ও মানদণ্ড মেনে চললেও ১০টি কারখানায় বিভিন্ন নিয়মের ঘাটতি রয়েছে।
আলোচনায় নারী শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদান, মাতৃত্বকালীন অধিকার, ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, পরিচ্ছন্নতা, মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং হয়রানিমুক্ত নিরাপদ অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, নিয়ম মেনে চলা কেবল কাগুজে নথি বা পরিদর্শনের বিষয় নয়; একজন শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে বাস্তবে কী ধরনের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, সেটাই মূল বিবেচ্য। নিয়ম পালনে পিছিয়ে থাকা কারখানাগুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাবদ্ধ সংশোধনী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং পরবর্তীতে তা যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সভায় বক্তব্য দেন বিজিএমইএর উপদেষ্টা এ. এম. মাহবুব চৌধুরী, বিজিএমইএ চট্টগ্রামের পরিচালক মো. সাইফুল্লাহ মনসুর, এখন টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক কাজী মাহফুজুল হক, শিল্প পুলিশ-৩-এর পুলিশ পরিদর্শক শিল্পী রাণী দেবনাথ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক কুসুম আকতার সোমা, ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের ব্যবস্থাপক রিদুয়ানুল হাকীম রিয়াদ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ নির্বাহী মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম সিএসও হাবের উপদেষ্টা ও চট্টলার কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক কমল চক্রবর্তী।
ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের প্রধান নির্বাহী উৎপল বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভা পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম সিএসও হাবের সভাপতি মো. আদনানুর রহমান।
সভা থেকে নিয়ম মানতে ব্যর্থ কারখানাগুলোর জন্য দ্রুত সংশোধনী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, শ্রমিকের নিয়োগপত্র নিশ্চিতকরণ, নারীবান্ধব নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি, শিশুর বুকের দুধ খাওয়ানোর সুবিধা, মানসম্মত শৌচাগার ব্যবস্থা এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এসব উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনার জোর দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের টেকসই প্রতিযোগিতা কেবল কম উৎপাদন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে না; বরং শ্রমিকের মৌলিক অধিকার, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, উন্নত উৎপাদনশীলতা এবং বৈশ্বিক মানদণ্ড রক্ষার সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। পরিদর্শনের নির্দিষ্ট দিনের চেয়ে শ্রমিকের প্রতিদিনের কর্মজীবনে এসব অধিকার দৃশ্যমান হওয়া জরুরি।
kalprakash.com/IM