পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি রাশেদুল ইসলামকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পাবনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন, ডিবি কার্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে একজন নারীকে জিম্মি করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাজানো ভিডিও ধারণ এবং তা ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন পেশাদার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও সাজানো তথ্য প্রচার স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাবনা ডিবির ওসি রাশেদুল ইসলামকে প্রত্যাহারসহ তাঁর ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আল্টিমেটাম দেন সাংবাদিক নেতারা। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বক্তারা।
পাবনা প্রেসক্লাবের সাহিত্য সম্পাদক পাভেল মৃধার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন প্রেসক্লাব সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাবেক সম্পাদক আব্দুল মতীন খান, সাবেক সভাপতি ও এনটিভি-সমকালের স্টাফ রিপোর্টার এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সম্পাদক ও মাছরাঙা টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চলীয় ব্যুরো চিফ উৎপল মির্জা, একুশে টেলিভিশন ও মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার রাজিউর রহমান রুমী, দ্য বাংলাদেশ টুডে প্রতিনিধি আব্দুল হামিদ খান, জিকে সাদী, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মান্নান মাস্টার, প্রথম আলো প্রতিনিধি সরোয়ার মোর্শেদ উল্লাস, আলোকিত বাংলাদেশ প্রতিনিধি কাজী বাবলা, এটিএন নিউজ ও আগামীর সময় প্রতিনিধি রিজভী জয়, ক্যামেরা জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন পাবনার সভাপতি জিয়াউল হক রিপন এবং বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা সমিতি পাবনার সভাপতি আব্দুল মজিদ প্রমুখ। এ সময় শতাধিক সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
পাবনা প্রেসক্লাবের নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক নামধারী একটি কুচক্রী মহল পাবনা প্রেসক্লাবের বিপরীতে প্রায় একই নামে সংগঠন খুলে মাদক ব্যবসা, জমি দখল, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। মূলধারার সংবাদকর্মীরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চক্রটি কতিপয় অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় এক তরুণীকে ব্যবহার করে পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি সাজানো নাটকের আশ্রয় নেয়।
মানববন্ধন শেষে ডিবির ওসি রাশেদুল ইসলামকে প্রত্যাহারসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পাবনার পুলিশ সুপারের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন সাংবাদিক নেতারা। স্মারকলিপির অনুলিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ও পাবনা জেলা প্রশাসকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী তরুণী নাফিসা তাঁর নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেন যে, সুবর্ণা হালিম নামের এক নারী নেত্রী তাঁকে জিম্মি করে প্রেসক্লাব সম্পাদক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মা-বাবার উপস্থিতিতে সোহেল রানা বিপ্লব নামে এক কথিত সাংবাদিক এই সাজানো বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। নাফিসা ইতোমধ্যে লিখিতভাবে থানায় দেওয়া মিথ্যা অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার আতঙ্কিত হয়ে আমাদের কাছে সহায়তা চেয়েছিল। তাদের উদ্ধার করে আমাদের হেফাজতে এনেছিলাম আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে কেউ হয়তো ভিডিও করেছে।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM