ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাধারণ গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা ৫৭ কোটি ৬১ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সরকারি নথিতে উল্লেখিত ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হলেও এসব সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য বহুগুণ বেশি বলে জানা গেছে।
একই সঙ্গে নজরুল ইসলামের বিদেশে পাচার করা অর্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কথিত অবৈধ সম্পদের তথ্য সংগ্রহ ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শিগগিরই দেশটিতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে নিশ্চিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এ ক্রোকের আদেশ দেন।
দুদক সূত্র জানায়, সংস্থাটির উপপরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান দুদক বিধিমালা, ২০০৭ (সংশোধিত ২০১৯)-এর ১৮ নম্বর বিধি অনুযায়ী নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন করেন। আদালতের পর্যালোচনায় উঠে আসে, গ্রাহকদের সঞ্চয়ের অর্থ দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা এফডিআর আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত মূল্যে জমি কেনাসহ নানা আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করা হয়েছে। অনুসন্ধানের আওতাধীন এসব সম্পত্তি ক্রোক না করলে তা বিক্রি, হস্তান্তর বা বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনায় ঢাকার জেলা রেজিস্ট্রারসহ ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের জেলা রেজিস্ট্রারদের ক্রোককৃত এসব স্থাবর সম্পত্তি কোনোভাবেই হস্তান্তর বা নামজারি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর ক্রোককৃত সম্পদের বিবরণ আদালতের নথি অনুযায়ী, নজরুল ইসলামের নামে মোট ২০টি দলিলের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আওতায় এসেছে, যার সরকারি বা দলিলমূল্য ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—রাজধানীর গুলশানে ৮ কাঠা জমিসহ আলিশান বাড়ি (দলিলমূল্য ১০ কোটি টাকা), পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ৬ দশমিক ১৮ একর জমি (দলিলমূল্য ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা) এবং উত্তরায় ২১ দশমিক ২১ কাঠা জমি। এছাড়া যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর, ময়মনসিংহের ভালুকা, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে তাঁর জমি ও প্লট রয়েছে।
অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে ২২টি দলিলের সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে, যার সরকারি ক্রয়মূল্য ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। তাসলিমার নামে থাকা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে গুলশান ও বাড্ডায় একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি এবং খিলক্ষেতে আবাসিক প্লট ও বহুতল ভবন। এছাড়া ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, সূত্রাপুর, গাজীপুর ও মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতেও তাঁর নামে জমি রয়েছে।
সব মিলিয়ে এ দম্পতির নামে থাকা রেজিস্ট্রিকৃত ৪২টি দলিলের মোট সরকারি ক্রয়মূল্য ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা হলেও বর্তমান বাজারে এর প্রকৃত মূল্য কয়েক শ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১-এ ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৫ সালে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই দায়ের হওয়া ৩৫ নম্বর মামলায়同年 ২৩ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দেশে ও বিদেশে থাকা বিপুল সম্পদের তথ্য দেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাঁর সম্পদ জব্দ ও বিস্তারিত জানতে এমএলএআর পাঠানোর কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে দুদক।
kalprakash.com/IM