ইরান সংকট নিয়ে আবারও বড় ধরনের মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত বা যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে এবং সংঘাত থামলেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে।
আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্যাথেরিন কনোলির সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ ও সিএনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডাবলিনে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বহু শক্তিশালী কৌশলগত বিকল্প রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের হাতে ঠিক কী কী বিকল্প রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
আগামী নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ট্রাম্পের ধারণা, এই নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, ইরান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। সম্ভবত মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরপরই এর সমাপ্তি ঘটবে। আসন্ন নির্বাচনকে জটিল করে তুলতেই তারা (ইরান) যতটা সম্ভব সময়ক্ষেপণ করার চেষ্টা করছে। তবে আমার বিশ্বাস, জনগণ বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছে।”
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতা, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা এবং সৌদি আরবের কৌশলগত তেল পাইপলাইনে সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকট নিয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প আশ্বস্ত করে বলেন, সবকিছু ইতিবাচকভাবেই মিটে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না; বিষয়টি খুবই সাধারণ ও স্পষ্ট।” সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, সংঘাতের অবসান ঘটলেই জ্বালানি তেলের বাজার দ্রুত স্বাভাবিক হবে।
গত শুক্রবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে সপ্তাহের ব্যবধানে তা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৬১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সৌদির পাইপলাইনে হামলায় ইরানকে দায়ী করলেন ট্রাম্প সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পেছনে সম্ভবত ইরানই জড়িত বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় তারাই (ইরান) দায়ী। সম্ভবত তারাই এ হামলা চালিয়েছে।” এর আগে সৌদি আরব জানায়, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপিত ড্রোন দিয়ে একাধিক হামলার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তারা ওই পাইপলাইন দিয়ে তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।
পিছু না হটার ঘোষণা ইরানের এদিকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ভারত সফররত ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো চাপের মুখে তেহরান পিছু হটবে না। শুক্রবার গভীর রাতে নয়াদিল্লিতে ভারতীয় ধর্মীয় নেতাদের এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, “ইরান অত্যন্ত সফলভাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। সত্য ও ন্যায়বিচারের পথে অবিচল থাকায় আমরা কোনো ধরনের দাম্ভিক আধিপত্যবাদের কাছে নতি স্বীকার করব না।”
সূত্র: সিএনবিসি
kalprakash.com/IM