ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অর্থনৈতিক যুদ্ধের নির্দেশ দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মূলত সামরিক ক্ষেত্রে নিজেদের চরম পরাজয় ও ব্যর্থতারই পরোক্ষ স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহেব্বি।
ইরানের সংবাদমাধ্যম পার্সটুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী মন্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জেনারেল মোহেব্বি। তিনি বলেন, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তাঁরা ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এটি যুদ্ধক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সামরিক অক্ষমতা ও পরাজয়ের এক স্পষ্ট স্বীকারোক্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।
ইরানি জেনারেল বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে যদি তাদের কোনো বিজয়ের সম্ভাবনা থাকত, তবে এভাবে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের আশ্রয় নিতে হতো না। এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ কোনো নতুন বিষয় নয়। গত ৪৭ বছর ধরে মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে এবং অর্থনীতির সবকটি কৌশলগত খাতকে নিশানা করেছে। মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালিয়ে ইরানি জনগণের মনোবল ভেঙে দেওয়াই এখন শত্রুপক্ষের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, শত্রুর যেকোনো প্রতিকূল পদক্ষেপ প্রতিহত করতে তেহরানের কাছে সুস্পষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঝুঁকি ও নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ইরান। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিকল্প বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা হয়েছে, ফলে এ নিয়ে দেশটির কোনো শঙ্কা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অব্যাহত রাখার কথা তুলে ধরে জেনারেল মোহেব্বি বলেন, ওয়াশিংটনের কঠোর নজরদারিকে ফাঁকি দিয়ে ইরান তার নিয়মিত বাণিজ্যিক লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে এবং অদূর ভবিষ্যতেই বিশ্ব এর কার্যকর ফলাফল দেখতে পাবে।
kalprakash.com/IM