ফ্যাশনে পুরোনো দিনের আবেদন কখনোই পুরোপুরি ফিকে হয়ে যায় না। একসময়কার জনপ্রিয় পোশাক, চুলের কাট কিংবা সাজের ধরন নতুন প্রজন্মের হাত ধরে বারবার ফিরে আসে নতুন আঙ্গিকে। কখনো সেই ঐতিহ্য ফুটে ওঠে পোশাকে, কখনো মেকআপে, আবার কখনো ফ্রেমবন্দী ছবিতে ফিরে আসে নস্টালজিক পুরোনো আবহ। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ নজর কাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ১৯৮০-এর দশকের আদলে ছবি তৈরির এক নতুন ট্রেন্ড।
আশির দশকের ফ্যাশনের প্রধান বৈশিষ্ট্যই ছিল আত্মবিশ্বাসী ও জমকালো সাজ। ভলিউমযুক্ত বড় চুল, উজ্জ্বল মেকআপ, বড় স্টেটমেন্ট গয়না এবং কনট্রাস্ট রঙের পোশাক—সব মিলিয়ে সে সময়কার সৌন্দর্যে ছিল এক স্বতন্ত্র বৈচিত্র্য। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানের একটি সাধারণ স্মার্টফোনের ছবিকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে রূপ দেওয়া হচ্ছে এমনভাবে, যেন তা কয়েক দশক আগে কোনো এনালগ স্টুডিও ক্যামেরায় তোলা। শুধু সাজসজ্জা বা পোশাক নয়; আলোর ব্যবহার, ব্যাকগ্রাউন্ড, রঙের উষ্ণতা এবং ৩৫ মিলিমিটার ফিল্মের দানাদার টেক্সচারও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে এসব ছবিতে।
কীভাবে তৈরি করবেন ৮০-এর দশকের ছবি: এ ধরনের রেট্রো ছবি তৈরি করতে প্রথমে যেকোনো নির্ভরযোগ্য এআই ইমেজ জেনারেটরে নিজের স্পষ্ট ও পর্যাপ্ত আলোর একটি পোর্ট্রেট ছবি আপলোড করতে হবে। এরপর প্রম্পট বা নির্দেশনায় আপনি ঠিক কেমন আবহ চান, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
উদাহরণ হিসেবে এ ধরনের প্রম্পট ব্যবহার করা যেতে পারে: ‘ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকের একটি বাস্তবসম্মত পোর্ট্রেটে রূপান্তর করুন। মুখের মূল বৈশিষ্ট্য, পরিচয়, বয়স ও স্বাভাবিক অভিব্যক্তি অপরিবর্তিত রাখুন। আশির দশকের উপযোগী ভলিউমযুক্ত চুল, পোশাক ও মেকআপ দিন। পেছনে রাখুন সেই সময়ের স্টুডিওর ক্লাসিক ব্যাকগ্রাউন্ড। ছবিতে ৩৫ মিমি ফিল্মের সূক্ষ্ম দানা (grain), উষ্ণ রং, নরম ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক ছায়া এবং বাস্তবসম্মত ত্বকের টেক্সচার যোগ করুন। ছবিটি যেন কোনো কৃত্রিম ফিল্টার দেওয়া আধুনিক ছবি মনে না হয়ে সত্যিই আশির দশকে তোলা অ্যানালগ ছবি মনে হয়। কোনো লেখা বা ওয়াটারমার্ক রাখবেন না।’
যুক্ত করতে পারেন স্থানীয় আবহ: আন্তর্জাতিক রেট্রো লুকে সীমাবদ্ধ না থেকে ছবিতে দেশীয় আবহ ফুটিয়ে তুলতে নির্দেশনায় নির্দিষ্ট উপাদান যোগ করা যায়। যেমন বাংলাদেশের আশির দশকের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, পুরোনো ঢাকার অলিগলি, কাঠের ভিনটেজ আসবাবপত্র, ডায়াল ঘোরানো টেলিফোন কিংবা তৎকালীন ফটো স্টুডিওর বিশেষ আবহ। এতে ছবিতে শুধু ভিনটেজ আমেজই থাকবে না, বরং ফুটে উঠবে নিজস্ব সংস্কৃতি ও স্মৃতির মেলবন্ধন।
চুল ও পোশাকে রেট্রো ছোঁয়া: ছবিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে সুনির্দিষ্ট বর্ণনা দেওয়া জরুরি। যেমন পাফড স্লিভ ব্লাউজ বা শার্ট, বড় কলার, চওড়া বেল্ট, ওয়েভি হেয়ারস্টাইল কিংবা উজ্জ্বল রঙের পোশাকের কথা বলা যেতে পারে। মেকআপে ক্লাসিক উইংড আইলাইনার, কিছুটা গাঢ় লিপস্টিক বা শেডের ব্যবহার আশির দশকের ট্রেন্ডকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে। তবে সব উপাদান একসঙ্গে না দিয়ে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ স্টাইল বেছে নেওয়াই শ্রেয়, যাতে ছবিটি স্বাভাবিক দেখায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ হলো—এআই কেবল ছবির রং বদলাচ্ছে না, বরং নিখুঁতভাবে তুলে ধরছে কয়েক দশক আগের ফটোগ্রাফির আবহ ও জীবনধারাকে। চার দশক আগের সেই নস্টালজিয়া এখন আর পুরোনো অ্যালবামের পাতায় বন্দি নেই, ডিজিটাল পর্দায় তা নতুন করে জীবন্ত হয়ে উঠছে।
kalprakash.com/IM