সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া কিংবা বিবাহবিচ্ছেদের মতো কঠিন ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে কর্মীদের মানসিকভাবে সামলে ওঠার সুযোগ দিতে বিশেষ ছুটির ব্যবস্থা চালু করেছে ভারতের বেঙ্গালুরুভিত্তিক ফিনটেক প্রতিষ্ঠান স্টকগ্রো। নতুন এই নীতির আওতায় কর্মীরা নিতে পারবেন এক সপ্তাহের ‘ব্রেকআপ লিভ’।
প্রতিষ্ঠানটির এই ছুটি পেতে কর্মীদের কোনো প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে না। এমনকি কেন ছুটি প্রয়োজন, সেটিও কর্তৃপক্ষকে ব্যাখ্যা করতে হবে না। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় পার করে মানসিকভাবে স্বাভাবিক হয়ে কর্মীদের কাজে ফেরার সুযোগ করে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাত দিনের ছুটির পরও কারও অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হলে ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আলোচনা করে ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা যাবে।
স্টকগ্রোর প্রতিষ্ঠাতা অজয় লাখোটিয়া জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের পরিবারের সদস্যের মতোই বিবেচনা করে। তাই ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সময় দেওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কোম্পানির ভাষ্য, পুরো নীতিটি পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে তৈরি। সম্পর্ক ভেঙেছে—এমন কোনো প্রমাণ কর্মীদের কাছ থেকে চাওয়া হবে না। বরং মানসিক চাপ ও ব্যক্তিগত কষ্ট কাটিয়ে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে কাজে ফেরার সুযোগ দেওয়াই এখানে অগ্রাধিকার।
স্টকগ্রোর এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে কর্মক্ষেত্রে বেশ আলোচনা তৈরি করেছে। সাধারণত অসুস্থতা, পারিবারিক প্রয়োজন, শোক কিংবা অন্যান্য প্রচলিত কারণে ছুটির ব্যবস্থা থাকলেও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া বা বিবাহবিচ্ছেদের মতো ব্যক্তিগত পরিস্থিতির জন্য আলাদা ছুটি দেওয়ার নজির তুলনামূলকভাবে কম।
এই উদ্যোগ কর্মক্ষেত্রে মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব নিয়েও নতুন করে আলোচনা সামনে এনেছে। ব্যক্তিগত জীবনের বড় কোনো ঘটনা থেকে তৈরি হওয়া মানসিক চাপকে কর্মীদের ছুটির যৌক্তিক কারণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত কি না—স্টকগ্রোর ‘ব্রেকআপ লিভ’ সেই বিতর্ককেই আরও জোরালো করেছে।