সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকায় চুরির অপবাদে এক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, আনুমানিক ১৫-১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরীর কোমরে লোহার শিকল বাঁধা এবং এক যুবক তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। সে সময় কিশোরীটি অঝোরে কাঁদছিল।
জানা গেছে, গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক রাত ১১টার দিকে শাহজালাল উপশহরের ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে স্থানীয় কয়েকজন দোকানদার ও এলাকার লোকজন মিলে ওই কিশোরীকে আটক করে।
মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের দাবি, ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় একটি দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে অর্থ চুরির চেষ্টাকালে ওই কিশোরীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে মারধর করে কোমরে শিকল বেঁধে রাস্তায় ঘোরানো ও টেনেহিঁচড়ে নেওয়া হয়। তবে ঠিক কারা তাকে মারধর করেছে কিংবা শিকল পরিয়ে হেনস্তা করেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী কোনো সাধারণ নাগরিক আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে কেবল আটক করতে পারেন। তবে তাকে কোনো বিলম্ব না করে অনতিবিলম্বে পুলিশ বা নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আটক ব্যক্তিকে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়া, শারীরিক নির্যাতন করা কিংবা কোমরে শিকল বেঁধে জনসমক্ষে ঘুরিয়ে অবমাননা করা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ বিষয়ে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীটিকে হেফাজতে নেয়। চুরির বিষয়ে স্থানীয়রা মৌখিকভাবে অভিযোগ তুললেও এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি। এমনকি কিশোরীকে উদ্ধারের পর স্থানীয়দের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ বা সহায়তাও পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে ঘোরানোর প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে চুরির অভিযোগ থাকলেও কাউকে এভাবে শিকল বেঁধে নির্যাতন করার কোনো অধিকার কারও নেই। কেউ যদি এমনটি করে থাকে, তবে তা চরম অন্যায় ও বেআইনি।’
kalprakash.com/IM