কৃষকদের আর্থিক ও কৃষি সহায়তা নিশ্চিত করতে বাগেরহাটে শুরু হয়েছে কৃষি কার্ডের জন্য কৃষক শনাক্তকরণ কার্যক্রম। প্রথম পর্যায়ে জেলার ৯টি উপজেলায় ২৬ হাজার ৩৩৮ জন কৃষককে কার্ড প্রদানের জন্য চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে বাগেরহাটের ২ লাখ ৪৪ হাজার ৩২৮ জন কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে ৩১ হাজার ৩৭৪ জন কৃষককে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ২৬ হাজার ৩৩৮ জনের তথ্য সংগ্রহ শেষ হয়েছে। বাকি কৃষকদের তথ্য সংগ্রহের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অতিরিক্ত উপপরিচালক অপূর্ব লাল সরকার জানান, প্রথম পর্যায়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ২৬ হাজার ৩৩৮ জন কৃষকের তথ্য ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট তথ্য সংগ্রহের কাজ পুরোদমে চলমান রয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট সদর, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, রামপাল, কচুয়া, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, মোংলা ও চিতলমারীর বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রথম ব্লকের জরিপ কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা কৃষি দপ্তর জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য কৃষকদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত যাচাই করা ২৬ হাজার ৩৩৮ জনের তালিকা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।
এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরকারি অনুদান পাবেন। জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এ অর্থ বিতরণ করা হবে।
কৃষি কার্ড শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। কার্ডধারীরা সেচ সুবিধা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে পরামর্শ, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, কৃষি বীমা, ভর্তুকি-প্রণোদনা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও কৃষি উপকরণ পাওয়ার সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
কৃষিবিদ হাজি মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকদের এই কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। কার্ডটি মূলত ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে এবং প্রতিবছর এর মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরকারি অনুদান পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
তিনি আরও জানান, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনলাইনের মাধ্যমে বাগেরহাটের উপকূলীয় রামপাল উপজেলাকে যুক্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, উপকূলীয় জেলা হওয়ায় বাগেরহাটের কৃষি খাত প্রতিনিয়ত জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকে। প্রতিকূল এই পরিস্থিতির মধ্যেও কৃষকেরা ধান, শাকসবজি ও ফলমূলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন করে যাচ্ছেন। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে তাঁদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
kalprakash.com/IM