যশোরের অভয়নগরে নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠনের এক সক্রিয় সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার রানাগাতী গ্রামের একটি সুপারি বাগান থেকে তাঁর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত বাহারুল মল্লিক (৪৬) অভয়নগর উপজেলার রানাগাতী গ্রামের হাকিম মল্লিকের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে এলাকা ছেড়ে পলাতক জীবনযাপন করছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৯টার দিকে রানাগাতী গ্রামের আব্দুর রশিদের সুপারি বাগানে রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাঁরা বিষয়টি থানায় অবহিত করেন। খবর পেয়ে অভয়নগর থানা পুলিশ ও বাসুয়াড়ী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাহারুল মল্লিকের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ আরও জানায়, বাহারুলের মুখের থুতনিতে গুলির স্পষ্ট ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া মরদেহের পাশ থেকে এক রাউন্ড গুলির বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাঁর হাঁটু থেকেও রক্তক্ষরণের আলামত পাওয়া গেছে।
নিহতের ছোট ভাই মামুন মল্লিক বলেন, আমার ভাই চরমপন্থী দলের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে প্রায় ২০ বছর এলাকাছাড়া ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গেও তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না। সোমবার সকালে জানতে পারি, বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে একটি সুপারি বাগানে তাঁর লাশ পড়ে আছে। কী কারণে বা কারা তাঁকে হত্যা করেছে, তা আমরা জানি না।
অভয়নগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. লুৎফর রহমান বলেন, নিহত বাহারুল নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠনের সদস্য ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও কোন্দলের জেরেই তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
kalprakash.com/IM