সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্কের টানে পাবনা থেকে যশোরের মণিরামপুরে প্রেমিকার বাড়িতে এসে বিষপানের ঘটনায় আলাউদ্দিন (১৮) নামের এক তরুণ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে তাঁকে জোর করে বিষ খাইয়ে দেওয়া হয়েছে—আহত তরুণের এমন অভিযোগের সঙ্গে প্রেমিকার পরিবারের বক্তব্য ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে স্পষ্ট অমিল দেখা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষপানকারী আলাউদ্দিন পাবনা জেলার আমিনপুর থানার শিবপুর গ্রামের বিল্লাল শেখের ছেলে। বর্তমানে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকে মনোহরপুর গ্রামের ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে আলাউদ্দিনের পরিচয় হয়। ওই কিশোরী মশ্মিমনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিচয়ের পর নিয়মিত যোগাযোগের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় চার মাসের সম্পর্কের সূত্র ধরে আলাউদ্দিন পাবনা থেকে মণিরামপুরে আসেন।
আলাউদ্দিনের দাবি, প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিয়েই তিনি তাদের বাড়িতে যান। সেখানে যাওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রেমিকার বাবা ও মামা মিলে তাঁকে জোরপূর্বক ঘাস মারার বিষ খাইয়ে দেন।
তবে এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে কিশোরীর পরিবার। তার দাদা মনিরুজ্জামান গাজী বলেন, আলাউদ্দিনকে বিষ খাওয়ানোর কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বরং পরিস্থিতি খারাপ দেখে পরিবারের লোকজনই তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও তরুণের অভিযোগের সঙ্গে তথ্যের ভিন্নতা পাওয়া গেছে। মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ জানান, ঘটনার আগের দিন আলাউদ্দিন ওই বাড়িতে গেলে তাঁকে বুঝিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। পরদিন রোববার তিনি আবারও বিষের বোতল হাতে নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।
ওসি আরও জানান, পরিবারের সদস্যরা তাঁর হাত থেকে বিষের বোতলটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বোতলটি মাটিতে পড়ে যায়। এরপর আলাউদ্দিন মাটি থেকে বোতলটি তুলে নিজেই কিছুটা বিষ মুখে দেন। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ বিশ্বাস জানান, রোগী বিষাক্ত পদার্থ পানের কথা জানালে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে রাত ১০টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্রে বিষপানের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জোর করে বিষপান নাকি আত্মহত্যার চেষ্টা—তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য থাকায় ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
kalprakash.com/IM