খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদনে ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঘানি টানার দায়িত্ব এবার নিয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও মানিকগঞ্জে ঘটেছে এমন অভিনব ঘটনা। বিদ্যুৎ সংযোগ ও অটোরিকশার মোটরের শক্তিতেই অনবরত ঘুরছে কাঠের ঘানি, ভাঙছে সরিষা আর ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়ছে টাটকা সরিষার তেল। প্রাচীন পদ্ধতির সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির এই চমৎকার মেলবন্ধন ঘটিয়ে মানিকগঞ্জজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তরুণ উদ্যোক্তা বিপ্লব সাহা।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মিতরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘সুজয় ঘানি’ নামের এই ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেন বিপ্লব সাহা। পূর্বে মোবাইল ফোনের ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলে চাকরির পেছনে না ছুটে সম্পূর্ণ নিজস্ব চিন্তা থেকে অটোরিকশার সাহায্যে ঘানি ঘুরিয়ে তেল উৎপাদনের পরিকল্পনা করেন তিনি।
শুরুতে মাত্র দুটি ঘানি নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও খাঁটি তেলের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে চারটি ঘানি সচল রয়েছে। বৈদ্যুতিক মোটরে চলা অটোরিকশার শক্তিতে তাঁর এই প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার ৮০০ লিটার খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদিত হচ্ছে। শুধু নিজের আত্মকর্মসংস্থানই নয়, তাঁর এই উদ্যোগে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অন্তত ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক।
বিপ্লব সাহার এই প্রয়াস কেবল সরিষার তেলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ঢেঁকি স্থাপন করে উৎপাদন করা হচ্ছে পুষ্টিকর লাল চাল এবং প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে নানা ধরনের খাঁটি মসলা। স্বাস্থ্যসম্মত পণ্যের কারণে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব খাদ্যপণ্য পৌঁছে যাচ্ছে আশপাশের বিভিন্ন এলাকাতেও। ফলে দূর-দূরান্ত থেকেও ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন এই ঘানিঘরে।
এদিকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) জানিয়েছে, এমন সৃষ্টিশীল ও সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঘানিকে আধুনিক রূপ দিয়ে বিপ্লব সাহা কেবল সফল ব্যবসাই গড়ে তোলেননি, গ্রামীণ অর্থনীতিতে সৃষ্টি করেছেন কর্মসংস্থানও। তাঁর এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, সঠিক চিন্তার সঙ্গে প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয় ঘটাতে পারলে যেকোনো ক্ষুদ্র উদ্যোগ থেকেও বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব।
kalprakash.com/IM