দেশের তৃণমূল পর্যায়ের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রাথমিকভাবে আটটি জেলার ৬৪টি উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় প্রতি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন প্যাকেজ দেওয়া হবে। এই প্যাকেজের ৫০ শতাংশ হবে সহজ শর্তের ব্যাংকঋণ এবং বাকি ৫০ শতাংশ এককালীন অনুদান।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’র বিস্তারিত তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
অর্থায়নের সুবিধা ও শর্ত
নির্বাচিত উদ্যোক্তারা তাদের বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পাবেন। এর মধ্যে অর্ধেক (১০ লাখ টাকা) অনুদান এবং বাকি অর্ধেক ব্যাংকঋণ হিসেবে দেওয়া হবে। গ্রাহক পর্যায়ে এই ঋণের সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ শতাংশ এবং এর জন্য কোনো ধরনের সহায়ক জামানত লাগবে না। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অংশটিও সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হবে এবং প্রচলিত নিয়মে ঋণখেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
কারা আবেদন করতে পারবেন
আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। আবেদনের শেষ তারিখে বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ২৮ বছর। কোনো পূর্ব ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা বা চলমান ব্যবসা থাকা বাধ্যতামূলক নয়; তবে বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থাকতে হবে।
যেসব খাতে মিলবে সহায়তা
কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য চাষ, পশুপালন, পর্যটন, সেবা খাত এবং প্রযুক্তিভিত্তিক যেকোনো বৈধ উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য এ অর্থায়নের আবেদন করা যাবে।
আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর কর্মসূচির বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখা থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যাবে। আবেদন গ্রহণ চলবে এক মাসব্যাপী।
প্রথম ধাপের আট জেলা
পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা—এই আট জেলার ৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচিটি শুরু হচ্ছে।
অর্থায়নের পাশাপাশি নির্বাচিত উদ্যোক্তারা পাবেন উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা, ব্যবসা নিবন্ধনে সহায়তা, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে সহযোগিতা এবং বাজার সংযোগের বিশেষ সুযোগ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, একজন সফল উদ্যোক্তা গড়ে ৩ থেকে ৫ জনের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন। সেই লক্ষ্য নিয়েই পাইলট প্রকল্প শেষে পর্যায়ক্রমে এটি দেশের সব উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হবে এবং প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে এ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হবে।
kalprakash.com/IM