রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার চেংমারী ইউনিয়নের চড়ারহাট বাজারে সরকারি খাস জমি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্পত্তি দখল করে অবৈধভাবে পাকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সরকারি সম্পত্তিতে নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন চেংমারী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. তহিদুল ইসলাম।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্য তহিদুল ইসলাম দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে চড়ারহাট বাজারের দোকানগুলোর ইজারা নিয়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মো. শাহ আলম ইসলাম (বিপ্লব) নামে এক ব্যক্তি বাজারের সরকারি জমিতে ইট দিয়ে পাকা দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বিষয়টি জানতে পেরে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাম পুলিশ নিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দিতে যান ইউপি সদস্য। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় লোকজন ও গ্রাম পুলিশের উপস্থিতিতেই ইউপি সদস্যকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন। অভিযোগকারী জানান, পরবর্তীতে তিনি চড়ারহাট বাজারে সরকারি নিয়মে ইজারা ও টোল আদায় করতে গেলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর লোকজন বাধা প্রদান করেন।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চড়ারহাট বাজারের সরকারি জায়গা এবং সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্পত্তিতে শাহ আলমসহ আরও কয়েকজন অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণ করে জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। অভিযোগে মো. দেলশাদ মিয়া নামে অপর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও সরকারি সম্পত্তিতে ঘর নির্মাণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারী ইউপি সদস্য তহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি অবিলম্বে তদন্ত করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশিক জামান জানান, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
kalprakash.com/IM