মাদকের থাবা ও অপরাধপ্রবণতা যখন তরুণ সমাজকে বিপথগামী করছে, তখন কঠোর আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী। পেশাগত দক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি খাগড়াছড়ি জেলার ‘শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি)’ হিসেবে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে এ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
দীঘিনালা থানায় যোগদানের পর থেকেই মাদক নির্মূলকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করেন ওসি ইকবাল বাহার। জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে তিনি নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা ও মাঠপর্যায়ে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছেন। তাঁর ধারাবাহিক অভিযানের মুখে এলাকার অনেক চিহ্নিত মাদক কারবারি হয় এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, নয়তো অপরাধের পথ ছেড়েছে।
আইন প্রয়োগে কঠোর হলেও সাধারণ ও বিপদগ্রস্ত মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন এক আস্থার প্রতীক। তাঁর বেশ কিছু মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সম্প্রতি ৭৫ বছর বয়সী গৃহহীন বৃদ্ধা জহুরা বেগমের অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। পাশাপাশি মশারি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়ে নিশ্চিত করেন তাঁর সাময়িক আশ্রয়। এ ছাড়া অর্থাভাবে চিকিৎসাবঞ্চিত বিরল রোগে আক্রান্ত দেড় বছরের শিশু সামিয়ার চিকিৎসার যাবতীয় আর্থিক ব্যয়ভার বহন করে পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এক অসহায় মায়ের অভিযোগ পেয়ে ছেলেটিকে সরাসরি গ্রেপ্তার না করে থানায় এনে আইনি পরামর্শ ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করেন। ফলে ওই যুবক স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে এবং পরিবারটিতে স্বস্তি ফিরে আসে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, “পুলিশ কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়, এটি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। একজন মানুষ ও পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে বিপদে পড়া অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো আমার নৈতিক দায়িত্ব। আইনের কঠোরতার পাশাপাশি ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মুখে একটু হাসি ফোটাতে পারাই আমার কাজের মূল সার্থকতা।”
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “দীঘিনালায় কোনো মাদক কারবারি বা সেবনকারীকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। তবে শুধু পুলিশ দিয়ে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়; পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে।”
দীঘিনালার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরীর সময়োপযোগী ও মানবিক কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মনে পুলিশের প্রতি হারানো বিশ্বাস ও আস্থা ফিরিয়ে এনেছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এই কঠোর ও মানবিক ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা তাঁদের।
kalprakash.com/IM