রাঙামাটি জেলা শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ দমনে কোতোয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ডাকাতি, চুরি, মাদক সংশ্লিষ্টতা এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে ৪০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ উদ্ধার করে পুলিশ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএমের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল রাঙামাটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিত এই অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কর্মচারী কলোনির বাসিন্দা মো. ফজল করিমকে (৩৬) ডাকাতির মামলায় এবং মিরাজুল ইসলাম রনিকে (২৬) চুরি ও বসতঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া মাদক সেবন এবং মাদক ক্রয়-বিক্রয়ে সহায়তার অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন—বাবু চাকমা (৪৫), অমর বিকাশ চাকমা (৩৫), মো. নুরুল আলম (৩৯), নান্টু কুমার রুদ্র (৪০), মিজান উদ্দিন চৌধুরী (৩৬), পাঞ্জু মল্লিক (৫৪), প্রিয় জীবন চাকমা (১৯) ও পুলক দেব (৪৫)। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৪০ লিটার দেশীয় চোলাই মদ জব্দ করা হয়। অন্যদিকে সিআর পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি হিসেবে মিরাজ মিয়াকে (৪৭) গ্রেপ্তার করা হয়।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম বলেন, রাঙামাটি শহরসহ পুরো জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পুলিশের বিশেষ ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক, চুরি, ডাকাতি ও সামাজিক যেকোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধ দমনে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়মিত পরিচালিত হবে।
কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসীম উদ্দীন জানান, শহরকে অপরাধ ও মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
kalprakash.com/IM