বেনাপোল স্থলবন্দরে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পৃথক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দুই শ্রমিকের মধ্যে রবিউল হোসেন নামের এক শ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
এর আগে গত সোমবার (৩১ আগস্ট) বন্দরে আমদানি পণ্য খালাসের সময় ভারী কাগজের বেল পড়ে রবিউল হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত রবিউল হোসেন বেনাপোল পোর্ট থানার বৃত্তিআঁচড়া গ্রামের দোলা ইসলামের ছেলে।
এদিকে এর আগের দিন রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বন্দরের ৯ নম্বর শেডের ভেতরে ফর্কলিফটের ভারী যন্ত্রাংশ বুকে পড়ে গুরুতর আহত হন আক্তারুল ইসলাম (৫০) নামের আরেক শ্রমিক। তিনি বর্তমানে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তাঁর স্বজনেরা জানিয়েছেন, আক্তারুলের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বন্দর শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার পণ্য খালাসের সময় ভারী কাগজের বেল পড়ে রবিউল গুরুতর আহত হলে সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (নাভারণ) নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে রবিবার ফর্কলিফট দিয়ে একটি ফিল্ম ট্রাকে পণ্য ওঠানোর সময় যন্ত্রাংশ পিছলে আক্তারুল ইসলামের বুকের ওপর আছড়ে পড়লে তিনি রক্তাক্ত হন। তাঁকেও প্রথমে নাভারণ ও পরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং-৯২৫)-এর সভাপতি তবিবুর রহমান তবি ও সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই তাঁরা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। তবে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই স্থলবন্দরে প্রতিদিন হাজারো শ্রমিক কাজ করলেও বন্দরের ভেতরে কোনো জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্র বা অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা নেই। আহত শ্রমিকদের তাৎক্ষণিকভাবে দূরবর্তী হাসপাতালে নিতে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, যা মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়।
শ্রমিক নেতারা আরও অভিযোগ করেন, বন্দরে ত্রুটিযুক্ত ও নিম্নমানের ক্রেন-ফর্কলিফট ব্যবহারের কারণেই বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। তাঁরা অবিলম্বে বন্দরে জরুরি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন এবং আধুনিক ও নিরাপদ যন্ত্রপাতি সরবরাহের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন শ্রমিক হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, শ্রমিকদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার জন্য নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং আধুনিক মানের ক্রেন ও ফর্কলিফট সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে রবিউল হোসেনের মৃত্যুর খবর পৌঁছালে বেনাপোল বন্দর এলাকা ও তাঁর নিজ গ্রামে সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
kalprakash.com/IM