সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ | ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৭ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ৮:১৬:১৮

দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৫
শেয়ার: mail
দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

সারাদিনের কাজ চেয়ার-টেবিলে বসে। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ছুটতে হয় না, শারীরিক পরিশ্রমও খুব একটা নেই। বাতানুকূল ঘরে আরামদায়ক পরিবেশে ল্যাপটপের সামনেই কেটে যাচ্ছে দিনের ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। বাইরে থেকে আপাতদৃষ্টিতে অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক মনে হলেও এই ধরনের জীবনযাপন নীরবেই ডেকে আনছে জটিল সব শারীরিক ঝুঁকি। একাধিক সমীক্ষা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে, দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ করার কারণে হৃদ্রোগসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করা ব্যক্তিদের হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক অনেক বেশি। শুধু হৃদ্যন্ত্রই নয়, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে লিভারের ওপরেও। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী কর্মজীবীদের মধ্যে এ ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়ছে।

ডেস্কে বসে কাজের ক্ষেত্রে একদিকে শারীরিক পরিশ্রম যেমন কমে যায়, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা ল্যাপটপের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকায় মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার তাগিদ, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং কায়িক শ্রমের অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে শরীরে হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা ওঠানামা করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং স্থূলতাসহ একাধিক রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন, একটানা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা চেয়ারে বসে থাকার কারণে হাত-পায়ের স্বাভাবিক নড়াচড়া প্রায় বন্ধ থাকে। এতে পায়ের পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পেশির সক্রিয়তা হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক রক্ত সঞ্চালনেও বিঘ্ন ঘটে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মানবদেহের বিপাকীয় বা মেটাবলিক স্বাস্থ্যে। দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে ক্যালরি খরচের মাত্রা কমে গিয়ে দ্রুত ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা তৈরি হয়।

হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকেরা সবসময়ই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার তাগিদ দেন। অতিরিক্ত ওজন হৃদ্রোগের পাশাপাশি রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি করে। কাজের ধরন বদলে যাওয়ায় এখন অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠানেই ৮ ঘণ্টার বদলে কর্মীদের ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। কাজের তীব্র চাপে অনেক সময় কর্মীরা চেয়ার ছেড়ে ওঠার সুযোগও পান না।

তবে দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকার এই বিপদ এড়াতে দিনে কতটা হাঁটা প্রয়োজন? ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের তথ্য অনুযায়ী, দিনে ৮ হাজার পা হাঁটেন এমন ব্যক্তির অকালমৃত্যুর ঝুঁকি দিনে ৪ হাজার পা হাঁটা ব্যক্তির তুলনায় প্রায় অর্ধেক। চিকিৎসকেরা সাধারণত দিনে ৭ থেকে ১০ হাজার পা হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। নিয়মিত এই হাঁটাচলা শরীরকে সক্রিয় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রনিক রোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক।

তবে চিকিৎসকদের মতে, কেবল দিনের নির্দিষ্ট কোনো সময়ে একবার হাঁটলেই দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার সব ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। কেউ যদি সকালে বা সন্ধ্যায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটার পর অফিসে গিয়ে একটানা ৭-৮ ঘণ্টা চেয়ারে বসে কাজ করেন, তবুও তার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে যায়।

তাই শরীর সুস্থ রাখার প্রধান উপায় হলো সারাদিনই কাজের ফাঁকে ফাঁকে হালকা হাঁটাচলা করা। একটানা বসে না থেকে কাজের মাঝে প্রতি ৩০ মিনিট বা এক ঘণ্টা পরপর অন্তত ২ থেকে ৩ মিনিট হেঁটে নেওয়া উচিত। এছাড়া অফিস থেকে ফেরার পথে বা বিকেলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট উন্মুক্ত স্থানে হাঁটাচলা শরীর ভালো রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। কাজের ফাঁকে চেয়ারে বসে হালকা স্ট্রেচিং বা কয়েকবার পায়চারি করলেও দীর্ঘ সময় বসে থাকার নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

বিস্তারিত কমেন্টে