রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ | ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৬ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | ভোর ৫:০৭:২৮

মুম্বাইয়ে গির্জায় প্রার্থনার আগে খ্রিস্টানদের দিতে হচ্ছে ‘স্বেচ্ছায় প্রবেশের’ মুচলেকা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০১
শেয়ার: mail
মুম্বাইয়ে গির্জায় প্রার্থনার আগে খ্রিস্টানদের দিতে হচ্ছে ‘স্বেচ্ছায় প্রবেশের’ মুচলেকা

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মুম্বাইয়ে রবিবার গির্জায় প্রার্থনায় অংশ নেওয়ার আগে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের এক অস্বস্তিকর নিয়মের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রার্থনায় যোগদানের পূর্বে একটি নির্দিষ্ট ফরমে স্বাক্ষর করে তাঁদের ঘোষণা দিতে হচ্ছে যে, তাঁরা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছেন এবং তাঁদের কাউকে জোরপূর্বক গির্জায় আনা কিংবা ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে না।

মহারাষ্ট্র রাজ্যে নতুন ধর্মান্তরবিরোধী আইনের আওতায় ভবিষ্যতে সম্ভাব্য আইনি হয়রানি ও গ্রেপ্তার এড়াতে মুম্বাই মেট্রোপলিটন এলাকার প্রায় ৪ হাজার গির্জা এই ধরনের ‘সম্মতিপত্র’ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বোম্বে ক্যাথলিক সোসাইটির মুখপাত্র ডলফি ডি’সুজা বলেন, কেউ যাতে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মিথ্যা অভিযোগ না তুলতে পারে, সেজন্য যাজক ও গির্জাকে সুরক্ষিত রাখতে এটি তাঁদের একটি ‘ন্যূনতম সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা’। তিনি জানান, গত ছয় মাসে উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো ‘জোরপূর্বক ধর্মান্তর’ ঠেকানোর অজুহাতে অন্তত এক ডজন প্রার্থনাসভায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে। এ কারণে হামলাকারীদের শনাক্ত করতে গির্জাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মহারাষ্ট্রে ‘মহারাষ্ট্র ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন অ্যাক্ট ২০২৬’ কার্যকর হওয়ার পর খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে ধর্মান্তরবিরোধী আইন প্রণয়নকারী ১৩তম রাজ্যে পরিণত হয়েছে মহারাষ্ট্র।

অন্যান্য রাজ্যের মতো এ আইনেও জোরপূর্বক, প্রতারণা বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরকরণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেউ স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন করতে চাইলে তাঁকে ৬০ দিন আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এই নিয়ম ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গির্জার দায়িত্বশীলদের সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মুম্বাইয়ের প্রায় ২০টি নাগরিক ও খ্রিস্টান সংগঠন আইনটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেছে, এটি ভারতীয় সংবিধানে স্বীকৃত ধর্ম পালন ও প্রচারের মৌলিক অধিকারের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ।

ভারতে ১৯৮০-এর দশক থেকেই কিছু রাজ্যে ধর্মান্তরবিরোধী আইন ছিল। তবে গত এক দশকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর এসব আইন আরও কঠোর ও বিস্তৃত হয়েছে। ২০২০ সালে উত্তর প্রদেশে এই আইন কার্যকরের পর থেকে প্রায় ২০০টি মামলায় যাজক ও সাধারণ উপাসকসহ ৮০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, দাতব্য কাজ, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সহায়তাকেও অনেক সময় ‘প্রলোভন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

তবে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে উত্তর প্রদেশের ফতেহপুরে যাজকসহ ৯০ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পাঁচটি মামলা খারিজ করে পর্যবেক্ষণ দেন যে, নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করার হাতিয়ার হিসেবে ফৌজদারি আইন ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে শুধু ধর্মান্তরবিরোধী আইনই নয়, বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের (এফসিআরএ) প্রস্তাবিত সংশোধনীর কারণেও খ্রিস্টান সম্প্রদায় পরিচালিত স্কুল, হাসপাতাল ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রশাসনিক চাপ বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত প্রায় ৫২ হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২ হাজার ৪০০টিরও বেশি সংস্থার বিদেশি অনুদান গ্রহণের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মহল থেকে এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করা হলেও ভারতীয় সরকারের দাবি, এসব আইন জোরপূর্বক ধর্মান্তর রোধ এবং বিদেশি তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই প্রণয়ন করা হয়েছে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

মুম্বাইয়ে গির্জায় প্রার্থনার আগে খ্রিস্টানদের দিতে হচ্ছে ‘স্বেচ্ছায় প্রবেশের’ মুচলেকা

বিস্তারিত কমেন্টে