২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী পেন্টাগনে পালন করবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে নিউইয়র্কে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না থাকায় তিনি সেখানে যাচ্ছেন না—গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবর তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে অস্বীকার করেছেন তিনি।
এর আগে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ট্রাম্প শুরুতে নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে গিয়ে বক্তব্যের মাধ্যমে ৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকী স্মরণ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা সেখানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না রাখায় তিনি তাঁর পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন।
শুক্রবার সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে নিউইয়র্কে না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কারণ, আমি পেন্টাগনে যাচ্ছি।’ সাংবাদিকরা যখন জানতে চান তিনি কেন দুটি অনুষ্ঠানেই অংশ নিচ্ছেন না, ট্রাম্প তখনও একই উত্তর পুনর্ব্যক্ত করেন।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। ছিনতাইকারীরা দুটি যাত্রীবাহী বিমান নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে আছড়ে ফেলে। তৃতীয় একটি বিমান ওয়াশিংটনের পেন্টাগন ভবনে আঘাত হানে এবং যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্মরণসভার তিনটি স্থানেই উপস্থিত থাকবেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই মর্মান্তিক দিনের ২৫তম বার্ষিকীতে প্রেসিডেন্ট সেইসব মানুষকে স্মরণ করবেন, যাঁরা সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাবেন এবং মার্কিন নাগরিকদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসা সাহসী উদ্ধারকর্মীদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবেন।’ এ বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এর আগে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দীর্ঘ পোস্ট দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি প্রতিবেদনটিকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের কঠোর সমালোচনা করেন।
ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি বছরের পর বছর বহুবার নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি, সেখানে কখনোই কাউকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হয় না। এটি অত্যন্ত ভাবগম্ভীর একটি স্মরণ অনুষ্ঠান।’ তিনি আরও বলেন, ‘বক্তব্য দিতে না পেরে পরিকল্পনা পরিবর্তনের দাবি সম্পূর্ণ অসত্য। এটি কেবল নিহতদের ও তাঁদের প্রিয়জনদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করার একটি দিন।’
kalprakash.com/IM