দেশে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ডিলারদের কারসাজি ও প্রশাসনিক তদারকির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ কৃষকেরা। ডিলার পয়েন্ট থেকে সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে কৃষকদের অতিরিক্ত দামে খুচরা বাজার থেকে সার কিনতে হচ্ছে। অসাধু ডিলার ও মাঠপর্যায়ের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে সরকারের বরাদ্দকৃত সার সিন্ডিকেটের কবজায় চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূল ডিলাররা লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করায় বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব দেখা দিয়েছে; পাশাপাশি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকির ঘাটতিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোর ৬টা থেকে সার বিতরণ শুরু হলেও মাত্র এক-দুই ঘণ্টার মধ্যেই তা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ‘আজকের মতো বরাদ্দ শেষ’ বলে ঘোষণা দিলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত কৃষক দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি মাসে কোন ডিলারের অনুকূলে কত বস্তা সার বরাদ্দ এলো, কত বস্তা বিতরণ হলো এবং কত বস্তা মজুদ রয়েছে—তার কোনো তথ্য প্রকাশ্যে টানানো হয় না। তথ্যের এই অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে ডিলাররা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে পছন্দের খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন।
বর্তমানে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন খুচরা কীটনাশকের দোকানে প্রচুর সার মজুদ থাকলেও ডিলার পয়েন্টে কৃষকেরা সার পাচ্ছেন না। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি মূল্যের চেয়ে বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিলেই খুচরা দোকানগুলো থেকে সার পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের বরাদ্দকৃত এই সার ডিলার পয়েন্ট থেকেই অবৈধ পন্থায় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এটি সারের কোনো বাস্তব ঘাটতি নয়, বরং পরিকল্পিত কৃত্রিম সংকট। অসাধু ডিলার ও সিন্ডিকেটের এই কারসাজি তদন্ত করে অবিলম্বে সার বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরানো এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
kalprakash.com/IM