পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু ও তাদের পরিবারের পুষ্টি পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যগত সহনশীলতা এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় এক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘অ্যাক্সেস টু ইউটিলাইজেশন অব লাইফ সেভিং সার্ভিসেস বাই মার্জিনালাইজড কমিউনিটিজ ইন চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় মাটিরাঙ্গা অডিটোরিয়ামে জাবারাং কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
জাবারাং কল্যাণ সমিতির উপজেলা সমন্বয়কারী মো. মাঈনুদ্দিন রাজুর সঞ্চালনায় কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য নারায়ণ ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজালাল কাজল এবং মাটিরাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি জসীম উদ্দিন জয়নাল।
কর্মশালায় জানানো হয়, প্রকল্পটি খাগড়াছড়ি জেলার ৯টি উপজেলায় একযোগে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সমন্বিত পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং ওয়াশ (WASH—পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি) কার্যক্রমের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু ও তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জীবনমান উন্নয়ন করাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় বসবাসরত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি ও জীবন রক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা অত্যন্ত প্রয়োজন। অপুষ্টি দূরীকরণ, দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে এ প্রকল্প কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, ‘দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিশু ও প্রান্তিক পরিবারের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জীবন রক্ষাকারী সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকল্পের কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’
কর্মশালায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
kalprakash.com/IM