বাংলাদেশ ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo মুক্তিযুদ্ধে বাংলার নদ-নদী ও প্রকৃতি ছিল অকুতোভয় সহযোদ্ধা Logo জবি ছাত্রদলের ১০ দিনের আল্টিমেটাম: দখলকৃত হল পুনরুদ্ধারে কঠোর বার্তা Logo হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব তিথিতে লক্ষিখালীতে বারুণীস্নান ও মতুয়া মেলা Logo রক্তাক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, পারিবারিক বিরোধে হামলার অভিযোগ Logo বাগমারায় অবৈধভাবে ৬৫০ লিটার জ্বালানি মজুত, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা Logo কুবির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা Logo মুনাফা কমে নোকিয়া ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে Logo রিজিকের বরকত বৃদ্ধির জন্য করণীয়: ইস্তিগফার, দরুদ, সদকা ও তাকওয়া Logo বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব: সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন দিন অনলাইনে, তিন দিন সশরীরে ক্লাস Logo অবৈধ সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রা: বাংলাদেশিরা মানবপাচার ও নির্যাতনের শিকার

ডিপ স্টেট: রাষ্ট্রের আড়ালে লুকানো অদৃশ্য শক্তি

‘ডিপ স্টেট’—শুনলেই একটি অদৃশ্য, রহস্যময় শক্তি মনে হয় যা রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে। সাধারণ মানুষ বা নির্বাচিত সরকার হয়তো এটি দেখে না, তবে রাষ্ট্রের মূল ক্ষমতা এদের হাতেই থাকে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সাংবাদিকরা একমত যে, ডিপ স্টেট হলো সরকারি সংস্থা, সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনী, প্রভাবশালী আমলাতন্ত্র ও অন্য কিছু গোপন নেটওয়ার্কের একটি চক্র, যারা সরকারের সমান্তরালে থেকে নীতি-নির্ধারণে হাতেখড়ি দেয়। যুক্তরাজ্যের ‘পার্মানেন্ট সেক্রেটারি’ বা মিশরের সামরিক কাউন্সিলের মতো উদাহরণ বিশ্বে ডিপ স্টেটের অস্তিত্বের পরিচায়ক।

বাংলাদেশে বিষয়টি আলোচনায় আসে ২০২৫ সালে ওয়াশিংটনে, যখন সাংবাদিকরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন যে, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের সরকারের পতনে মার্কিন ডিপ স্টেটের ভূমিকা ছিল কি না। ট্রাম্প সরাসরি এ ভূমিকা অস্বীকার করলেও, ‘ডিপ স্টেট’ ধারণার অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্ক থামেনি।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সম্প্রতি দাবি করেন, ২০২৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’ তাদের ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি বলেন, এতে দেশি-বিদেশি একাধিক পক্ষ জড়িত ছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ মনে করেন, ডিপ স্টেট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং জনস্বার্থের চেয়ে বিশেষ মহলের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। তিনি যোগ করেন, সত্যিকারের গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হলে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে।

ডিপ স্টেটের অস্তিত্ব ও কার্যপ্রণালী যে অন্ধকার ও জটিল, তা বোঝার জন্য আন্তর্জাতিক উদাহরণ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কই যথেষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

kalprakash.com/SS

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধে বাংলার নদ-নদী ও প্রকৃতি ছিল অকুতোভয় সহযোদ্ধা

ডিপ স্টেট: রাষ্ট্রের আড়ালে লুকানো অদৃশ্য শক্তি

প্রকাশিত: ০২:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

‘ডিপ স্টেট’—শুনলেই একটি অদৃশ্য, রহস্যময় শক্তি মনে হয় যা রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে। সাধারণ মানুষ বা নির্বাচিত সরকার হয়তো এটি দেখে না, তবে রাষ্ট্রের মূল ক্ষমতা এদের হাতেই থাকে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সাংবাদিকরা একমত যে, ডিপ স্টেট হলো সরকারি সংস্থা, সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনী, প্রভাবশালী আমলাতন্ত্র ও অন্য কিছু গোপন নেটওয়ার্কের একটি চক্র, যারা সরকারের সমান্তরালে থেকে নীতি-নির্ধারণে হাতেখড়ি দেয়। যুক্তরাজ্যের ‘পার্মানেন্ট সেক্রেটারি’ বা মিশরের সামরিক কাউন্সিলের মতো উদাহরণ বিশ্বে ডিপ স্টেটের অস্তিত্বের পরিচায়ক।

বাংলাদেশে বিষয়টি আলোচনায় আসে ২০২৫ সালে ওয়াশিংটনে, যখন সাংবাদিকরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন যে, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের সরকারের পতনে মার্কিন ডিপ স্টেটের ভূমিকা ছিল কি না। ট্রাম্প সরাসরি এ ভূমিকা অস্বীকার করলেও, ‘ডিপ স্টেট’ ধারণার অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্ক থামেনি।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সম্প্রতি দাবি করেন, ২০২৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’ তাদের ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি বলেন, এতে দেশি-বিদেশি একাধিক পক্ষ জড়িত ছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ মনে করেন, ডিপ স্টেট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং জনস্বার্থের চেয়ে বিশেষ মহলের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। তিনি যোগ করেন, সত্যিকারের গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হলে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে।

ডিপ স্টেটের অস্তিত্ব ও কার্যপ্রণালী যে অন্ধকার ও জটিল, তা বোঝার জন্য আন্তর্জাতিক উদাহরণ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কই যথেষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

kalprakash.com/SS