‘ডিপ স্টেট’—শুনলেই একটি অদৃশ্য, রহস্যময় শক্তি মনে হয় যা রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে। সাধারণ মানুষ বা নির্বাচিত সরকার হয়তো এটি দেখে না, তবে রাষ্ট্রের মূল ক্ষমতা এদের হাতেই থাকে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সাংবাদিকরা একমত যে, ডিপ স্টেট হলো সরকারি সংস্থা, সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনী, প্রভাবশালী আমলাতন্ত্র ও অন্য কিছু গোপন নেটওয়ার্কের একটি চক্র, যারা সরকারের সমান্তরালে থেকে নীতি-নির্ধারণে হাতেখড়ি দেয়। যুক্তরাজ্যের ‘পার্মানেন্ট সেক্রেটারি’ বা মিশরের সামরিক কাউন্সিলের মতো উদাহরণ বিশ্বে ডিপ স্টেটের অস্তিত্বের পরিচায়ক।
বাংলাদেশে বিষয়টি আলোচনায় আসে ২০২৫ সালে ওয়াশিংটনে, যখন সাংবাদিকরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন যে, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের সরকারের পতনে মার্কিন ডিপ স্টেটের ভূমিকা ছিল কি না। ট্রাম্প সরাসরি এ ভূমিকা অস্বীকার করলেও, ‘ডিপ স্টেট’ ধারণার অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্ক থামেনি।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সম্প্রতি দাবি করেন, ২০২৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’ তাদের ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি বলেন, এতে দেশি-বিদেশি একাধিক পক্ষ জড়িত ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ মনে করেন, ডিপ স্টেট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং জনস্বার্থের চেয়ে বিশেষ মহলের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। তিনি যোগ করেন, সত্যিকারের গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হলে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে।
ডিপ স্টেটের অস্তিত্ব ও কার্যপ্রণালী যে অন্ধকার ও জটিল, তা বোঝার জন্য আন্তর্জাতিক উদাহরণ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কই যথেষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
kalprakash.com/SS
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























