পুনঃখননের পর নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত যশোরের শার্শার ঐতিহ্যবাহী উলাশী জিয়া খাল। খালটি সংস্কারের ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমে শার্শা উপজেলার ২২টি বিলের জলাবদ্ধতা দূর হয়েছে এবং সোনামুখী ও বনমান্দার বিলসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষকদের জন্য আমন ধানের আবাদের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রায় অর্ধশত বছর পর গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শার্শার উলাশীতে প্রায় ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। সরকারের দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দ্রুততম সময়ে এর খননকাজ সমাপ্ত করা হয়। এর আগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ঐতিহাসিক উলাশী খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন।
সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পর উলাশী জিয়া খালে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও স্রোত ফিরে এসেছে। খালের পানিতে স্থানীয় শিশু-কিশোররা সাঁতার কাটছে এবং জেলেরা জাল ফেলে মাছ ধরছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে এই খালের পানি ফসলের ক্ষেতে সেচ কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জিয়া খালের পাশেই বেতনা নদী রয়েছে, যেখান থেকে খালে পানি প্রবাহিত হতো। নদীটি বর্তমানে বেদখল অবস্থায় থাকায় খাল খননের শতভাগ সুফল পেতে বেতনা নদীকেও দ্রুত দখলমুক্ত ও খনন করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এর আগে খাল পরিদর্শনে এসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছিলেন, “উলাশী জিয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে যশোরের সার্বিক উন্নয়নের চাকা নতুন করে সচল হয়েছে। বিগত সময়ে থমকে থাকা এ অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম এখন পুরোদমে গতি পাবে।”
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, “দীর্ঘদিন খনন না করায় উলাশী জিয়া খালের নাব্যতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার খালটি পুনঃখননের ফলে সোনামুখী ও বনমান্দারসহ উপজেলার ২২টি ছোট-বড় বিলে বর্ষার পানি জমে থাকেনি। ফলে কৃষকরা নির্বিঘ্নে আমন ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন।” তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে শার্শা উপজেলায় মোট ২০ হাজার ৪৪৮ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
kalprakash.com/IM