রংপুরের মিঠাপুকুরে রাতের আঁধারে পাচারের সময় জব্দ করা ১০৫ বস্তা ইউরিয়া সার উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে। সার বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার চেংমারী ইউনিয়নের তালিমগঞ্জ বাজার এলাকায় মিঠাপুকুর থানা পুলিশের একটি টহল দল অভিযান চালিয়ে ট্রলিসহ ১০৫ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ এলাকা থেকে ট্রলিতে করে সারগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছিল। তবে সারের প্রকৃত মালিক বা এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। জব্দ করা ট্রলিটি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) উপজেলা চত্বরে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ এবং উপজেলা কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে জব্দ করা সার সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়। বিশেষ করে ময়েনপুর ও চেংমারী ইউনিয়নের স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে এসব সার বিতরণ করা হয়েছে।
মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হেকিম বলেন, “জব্দ করা সার সরকারি বিধি মোতাবেক বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সোনালী ব্যাংক মিঠাপুকুর শাখার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। সার পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী যদি অবৈধভাবে সার পাচার বা কৃত্রিম সংকটের চেষ্টা করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে মিঠাপুকুর উপজেলায় মোট ১ হাজার ৩৫১ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে ১৭টি অনুমোদিত ডিলার পয়েন্টে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। তাই সার নিয়ে কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এদিকে রাতের আঁধারে সার পাচারের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
kalprakash.com/IM