শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ | ৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১০:০১:১৫

মৃত্যুর আগে পাঁচটি নিয়ামত কাজে লাগানোর নির্দেশ: মহানবী (সা.)-এর অমূল্য নসিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০০
শেয়ার: mail
মৃত্যুর আগে পাঁচটি নিয়ামত কাজে লাগানোর নির্দেশ: মহানবী (সা.)-এর অমূল্য নসিহত

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিয়মিত সাহাবায়ে কেরামকে নসিহত করতেন ও মূল্যবান উপদেশ দান করতেন। এসব উপদেশ মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এসব দিকনির্দেশনা ও নসিহত হৃদয়ে ধারণ করলে তা জীবনপথের অন্যতম পাথেয় হয়ে থাকে।

হজরত আমর ইবনে মায়মুন (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন, পাঁচটি বিষয় আসার আগে পাঁচটি সুযোগকে বড় নিয়ামত মনে করবে— ১. বার্ধক্য আসার আগে যৌবনকে, ২. রোগাক্রান্ত হওয়ার আগে সুস্থতাকে, ৩. অভাবগ্রস্ত হওয়ার আগে সচ্ছলতাকে, ৪. ব্যস্ততা শুরু হওয়ার আগে অবসর সময়কে এবং ৫. মৃত্যু আসার আগে জীবন বা পরমায়ুকে (তিরমিজি)।

অর্থাৎ এই পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে সর্বদাই সতর্ক থাকতে হবে। যৌবনকে মূল্যায়ন করতে হবে এবং এই সময়ে ইবাদত-বন্দেগিতে অধিক মনোযোগী হতে হবে। সুস্থ অবস্থাকে আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত মনে করে অসুস্থ হওয়ার আগেই নিজের জানমাল ও সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যয় করা প্রয়োজন। সচ্ছল অবস্থায় নিজের সম্পদ ভালো কাজে দান করতে হবে; কারণ এমন পরিস্থিতি আসতে পারে যখন অর্থ ব্যয়ের ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্য থাকবে না। তাই সামর্থ্য থাকতে প্রত্যেকে নিজ সাধ্য অনুযায়ী ভালো কাজে সম্পদ ব্যয় করা সমীচীন। একইভাবে অবসর সময়কেও সঠিক পথে কাজে লাগাতে হবে। ব্যস্ততা বেড়ে গেলে অনেক সময় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নেক কাজে সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) অবসর সময়কে যথাযথভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সর্বোপরি মৃত্যু আসার আগেই নিজের জীবন ও সময়কে সৎকাজে নিয়োজিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কারণ মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় কারও জানা নেই।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, কে আছ যে আমার কাছ থেকে এই কয়েকটি বিধান গ্রহণ করে সে অনুযায়ী আমল করবে কিংবা এমন কাউকে শিক্ষা দেবে যে তা বাস্তবায়ন করবে? আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ, আমি গ্রহণ করব। অতঃপর তিনি আমার হাত ধরে পাঁচটি বিষয় গণনা করালেন। তিনি বললেন— ১. আল্লাহ যা কিছু নিষিদ্ধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকো, এতে তুমি শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী হবে। ২. আল্লাহ তোমার ভাগ্যে যা নির্ধারণ করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকো, এতে তুমি সবচেয়ে বড় ধনী হবে। ৩. প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করো, এতে তুমি পূর্ণাঙ্গ ইমানদার হবে। ৪. নিজের জন্য যা পছন্দ করো, মানুষের জন্যও তা-ই পছন্দ করো, এতে তুমি প্রকৃত মুসলমান হবে এবং ৫. অধিক মাত্রায় হাসবে না, কেননা অতিরিক্ত হাসলে অন্তর মরে যায় (মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি)।

হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) সূত্রে নবী করিম (সা.) থেকে বর্ণিত, তিনি ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত কোনো মানুষের দুই পা একটুও নড়তে পারবে না— ১. তার বয়স সম্পর্কে, সে জীবন কোন কাজে ব্যয় করেছে? ২. যৌবন সম্পর্কে, যৌবনের শক্তি কোন কাজে লাগিয়েছে? ৩. ধনসম্পদ সম্পর্কে, তা কীভাবে ও কোথা থেকে উপার্জন করেছে? ৪. সেই সম্পদ কোন পথে কীভাবে ব্যয় করেছে? এবং ৫. সে যে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করেছিল, সে অনুযায়ী কী আমল করেছে? (তিরমিজি)।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, স্বাস্থ্য ও অবসর—এই দুটি মূল্যবান নিয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষই বিভ্রান্তিতে রয়েছে (বুখারি)। অর্থাৎ এই দুটি সম্পদ হাতছাড়া হওয়ার পরই মানুষ এর প্রকৃত মর্যাদা অনুধাবন করতে পারে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, রোজ কিয়ামতে নিয়ামত সম্পর্কে বান্দার কাছে সর্বপ্রথম প্রশ্ন করা হবে—আমি কি তোমাকে সুস্থ দেহ দান করিনি? আমি কি তোমাকে শীতল পানি দিয়ে পরিতৃপ্ত করিনি? (তিরমিজি)।

লেখক: খতিব, সমিতিবাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

মৃত্যুর আগে পাঁচটি নিয়ামত কাজে লাগানোর নির্দেশ: মহানবী (সা.)-এর অমূল্য নসিহত

বিস্তারিত কমেন্টে