বাংলাদেশ ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo কুমিল্লায় দুই সাংবাদিককে হেনস্থা ও হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছবি প্রকাশে সিআরএ’র নিন্দা Logo শচীন টেন্ডুলকারের ছেলে অর্জুন: “খেলি শুধুই ভালোবাসার জন্য, প্রমাণের জন্য নয়” Logo আজ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস: শিশুদের যত্নে সচেতনতা জরুরি Logo ভূমিকম্প ঘিরে ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের খসড়া তালিকা প্রস্তুত: ত্রাণমন্ত্রী Logo ট্রাম্পের ভাষণের পর ইরান ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বৃদ্ধি করল Logo ইরান যুদ্ধ দুই-তিন সপ্তাহেই শেষ হবে: ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে ভাষণ Logo মানবতাবিরোধী মামলায় ইনুর পুনঃতদন্তের আবেদন খারিজ Logo ইসলামিক প্রজাতন্ত্র দিবসে তেহরানে উড়ল ইরানের সর্ববৃহৎ পতাকা Logo ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ ও সন্তানের পরিকল্পনা: কী গ্রহণযোগ্য, কী হারাম Logo এপ্রিলে তেলের কোনো সংকট হবে না: নিশ্চিত জ্বালানি বিভাগ
এমপি জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

‘ত্রাসের রাজত্ব’ ও দখলদারিত্বের অভিযোগে ভাগিনা সাজুর কর্মকাণ্ড ভাইরাল

রাজধানীর উত্তরখান থানাধীন মাউছাইদ ও উজামপুর এলাকায় দীর্ঘ এক দশক ধরে চলা ‘ত্রাসের রাজত্ব’ ও ‘দখলদারিত্বের’ অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ ও ভিডিওচিত্রে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকা সাজ্জাদ হোসেন ওরফে সাজু সরকারের হিংস্র থাবা থেকে রক্ষা পায়নি স্থানীয় নিরীহ পরিবারগুলো। বর্তমানে আইনি লড়াই ও সামাজিক লাঞ্ছনার শিকার হয়ে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

মামলার বোঝা ও ভিটেমাটি হারানোর ভয়—অনুসন্ধানে জানা যায়, গিয়াস উদ্দিন সরকারের সন্তানদের পৈতৃক জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন সাজু সরকার। তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মেজবাহ উদ্দিন সাচ্চুর সহযোগিতায় এই কর্মকাণ্ড সফল হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার দাপটে জমি হারিয়ে ভুক্তভোগীরা নিরুপায় হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন (সিএম আদালত, মামলা নং- ৬১১/২০১৬)। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, বছরের পর বছর মামলা চললেও ক্ষমতার প্রভাবে সাজু সরকার বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন।

একই এলাকার বাসিন্দা মিসেস রাশিদা পারভীন জানান, সাজু সরকারের হাত থেকে রেহাই পেতে তিনি আদালতে চুরির মালামাল রাখা ও দখলসংক্রান্ত মামলা (মামলা নং- ২৯৪/২০১৫, ধারা ৩৮০ ও ৪১১) করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, অথচ দখলদার এখনো বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাজু সরকারের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয়রা একে ‘সিনেমার দৃশ্যের চেয়েও ভয়ংকর অভিনয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বর্তমানে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ করছেন এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিষোদগার ছড়াচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এ-সংক্রান্ত ভিডিওটি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি পেজ—উত্তরখান থানা ছাত্রলীগের পেজ থেকে ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মূলত অপরাধ ঢাকতেই তিনি নতুন করে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, সাজু সরকার এখনো বলে থাকেন যে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা তার নিয়ন্ত্রণে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা গাজী মেজবাহ উদ্দিন সাচ্চু এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পিএস গাজী হাফিজুর রহমানের সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে তিনি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দখলদারিত্বের ‘চ্যাম্পিয়ন’ হওয়া এই ব্যক্তি নতুন প্রেক্ষাপটেও কীভাবে এত দাপট দেখানোর সাহস পান?

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই আইনি লড়াই ও সম্পদ হারানোর ক্ষতি যেন সরকার পূরণ করে। তারা বর্তমান প্রশাসনের কাছে সাজু সরকারের বিরুদ্ধে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে আর কোনো পরিবারকে এমন ‘হিংস্র থাবা’র শিকার হতে না হয়।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় দুই সাংবাদিককে হেনস্থা ও হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছবি প্রকাশে সিআরএ’র নিন্দা

এমপি জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

‘ত্রাসের রাজত্ব’ ও দখলদারিত্বের অভিযোগে ভাগিনা সাজুর কর্মকাণ্ড ভাইরাল

প্রকাশিত: ০৪:২২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর উত্তরখান থানাধীন মাউছাইদ ও উজামপুর এলাকায় দীর্ঘ এক দশক ধরে চলা ‘ত্রাসের রাজত্ব’ ও ‘দখলদারিত্বের’ অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ ও ভিডিওচিত্রে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকা সাজ্জাদ হোসেন ওরফে সাজু সরকারের হিংস্র থাবা থেকে রক্ষা পায়নি স্থানীয় নিরীহ পরিবারগুলো। বর্তমানে আইনি লড়াই ও সামাজিক লাঞ্ছনার শিকার হয়ে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

মামলার বোঝা ও ভিটেমাটি হারানোর ভয়—অনুসন্ধানে জানা যায়, গিয়াস উদ্দিন সরকারের সন্তানদের পৈতৃক জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন সাজু সরকার। তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মেজবাহ উদ্দিন সাচ্চুর সহযোগিতায় এই কর্মকাণ্ড সফল হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার দাপটে জমি হারিয়ে ভুক্তভোগীরা নিরুপায় হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন (সিএম আদালত, মামলা নং- ৬১১/২০১৬)। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, বছরের পর বছর মামলা চললেও ক্ষমতার প্রভাবে সাজু সরকার বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন।

একই এলাকার বাসিন্দা মিসেস রাশিদা পারভীন জানান, সাজু সরকারের হাত থেকে রেহাই পেতে তিনি আদালতে চুরির মালামাল রাখা ও দখলসংক্রান্ত মামলা (মামলা নং- ২৯৪/২০১৫, ধারা ৩৮০ ও ৪১১) করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, অথচ দখলদার এখনো বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাজু সরকারের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয়রা একে ‘সিনেমার দৃশ্যের চেয়েও ভয়ংকর অভিনয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বর্তমানে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ করছেন এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিষোদগার ছড়াচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এ-সংক্রান্ত ভিডিওটি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি পেজ—উত্তরখান থানা ছাত্রলীগের পেজ থেকে ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মূলত অপরাধ ঢাকতেই তিনি নতুন করে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, সাজু সরকার এখনো বলে থাকেন যে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা তার নিয়ন্ত্রণে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা গাজী মেজবাহ উদ্দিন সাচ্চু এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পিএস গাজী হাফিজুর রহমানের সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে তিনি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দখলদারিত্বের ‘চ্যাম্পিয়ন’ হওয়া এই ব্যক্তি নতুন প্রেক্ষাপটেও কীভাবে এত দাপট দেখানোর সাহস পান?

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই আইনি লড়াই ও সম্পদ হারানোর ক্ষতি যেন সরকার পূরণ করে। তারা বর্তমান প্রশাসনের কাছে সাজু সরকারের বিরুদ্ধে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে আর কোনো পরিবারকে এমন ‘হিংস্র থাবা’র শিকার হতে না হয়।