চুয়াডাঙ্গায় পরীক্ষামূলকভাবে বিদেশি ফল আনারকলি চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। গাছে গাছে এখন ঝুলছে ফুল আর কাঁচা-পাকা ফল। অল্প খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় এ ফল চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের। নতুন এই আনারকলি ফলের বাগান দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন কৃষি উদ্যোক্তারা।
জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কয়েকজন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে আনারকলি চাষ শুরু করেন। ইউটিউবে এ ফলের চাষাবাদ পদ্ধতি দেখার পর সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে চারা সংগ্রহ করেন তাঁরা। জমি তৈরি শেষে চারাগুলো রোপণ করা হয় এবং নিয়মিত সেচ, সার ও বালাইনাশক প্রয়োগসহ নিবিড় পরিচর্যা করা হয়।
গাছ লাগানোর ছয় মাস পর গাছে ফুল আসতে শুরু করে। ফুলগুলো ফলে রূপ নেওয়ার আগেই বাঁশের খুঁটি ও তার দিয়ে মাচা তৈরি করে দেওয়া হয়। বর্তমানে মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলছে আনারকলি ফল। আগস্ট মাসের শুরু থেকেই পাকা ফল সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হচ্ছে।
কৃষকদের তথ্যমতে, প্রতি এক বিঘা জমিতে প্রায় ১২০টি চারা রোপণ করতে হয়। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে প্রথম বছর বিঘা প্রতি খরচ হয় প্রায় এক লাখ টাকা। বিদেশি ফল হলেও চুয়াডাঙ্গার মাটি ও আবহাওয়া এ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বর্তমানে জীবননগর উপজেলাতেই প্রায় ১০ বিঘা জমিতে আনারকলি চাষ হচ্ছে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আনারকলি চাষে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এক বিঘা জমি থেকে প্রায় ৩০ মণ আনারকলি ফল উৎপাদিত হতে পারে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
kalprakash.com/IM