বাগেরহাটের মোংলায় ব্যতিক্রমী আয়োজনে পালিত হয়েছে বিশ্ব নদী দিবস। নদীর প্রতি ভালোবাসা ও নদী রক্ষার প্রত্যয় নিয়ে দিবসটি উপলক্ষে শিশুরা মোংলা নদীতে ফুল ছিটিয়ে এবং রঙিন কাগজের নৌকা ভাসিয়ে ভালোবাসার প্রতীকী বার্তা দেয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার নারিকেলতলা নদীপাড়ে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, উত্তরণ ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের কর্মসূচিতে ছিল নদী ও জেলেদের জীবন-জীবিকা সুরক্ষার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান, আলোচনা সভা, র্যালি, মানববন্ধন, নদীতে গণগোসল, সাঁতার ও হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা।
এবারের বিশ্ব নদী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বন বাঁচলে নদী বাঁচবে, নদী বাঁচলে পানি বাঁচবে, পানি বাঁচলে জীবন বাঁচবে’।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নদী ও জেলেজীবন সুরক্ষার বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমীর কাছে স্মারকলিপি দেন আয়োজকরা।
এর আগে শিশুরা নদীতে ফুল ছিটিয়ে এবং প্রতীকী নৌকা ভাসিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করে। পরে নদীতে গণগোসল, সাঁতার ও হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে স্থানীয় মানুষ ও শিশু-কিশোররা অংশ নেয়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ‘নদী বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধরা কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নূর আলম শেখ।
বক্তারা বলেন, নদী ও জলজ পরিবেশ রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে। একই সঙ্গে নদী দখল, দূষণ ও অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
আলোচনায় উত্তরণের ফিসনেট প্রকল্পের খুলনা অঞ্চলের অ্যাডভোকেসি অফিসার মো. মিজানুর রহমান, পরিবেশকর্মী রাফিয়া জাহান মিশু, জেলে সমিতির নেতা বিদ্যুৎ মণ্ডল ও আব্দুর রশিদ হাওলাদার, উত্তরণের মনিটরিং অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন, মোংলা এরিয়া ম্যানেজার মো. মোখলেছুর রহমান, ইয়ুথ ফর সুন্দরবনের সোহেল রানা ও মোহাম্মদ শাহীন খলিফাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
সভাপতির বক্তব্যে মো. নূর আলম শেখ বলেন, নদী, প্রকৃতি, জলাভূমি, বন ও কৃষিজমির সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর প্রয়োজন। তিনি রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই, গরম পানি ও কয়লা ব্যবস্থাপনাজনিত দূষণের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, এসব দূষণ পশুর নদীসহ সুন্দরবনসংলগ্ন নদী-খালের জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
মো. মিজানুর রহমান বলেন, আদালত নদীকে জীবন্ত সত্তার স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাই নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ মাছ আহরণ বন্ধের পাশাপাশি জেলেদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
জেলে সমিতির নেতা আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেন, শিল্পকারখানা ও কয়লাসংশ্লিষ্ট দূষণ থেকে পশুর নদী এবং সুন্দরবন এলাকার নদী-খাল ও জলাশয় রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ দরকার।
পরিবেশকর্মী রাফিয়া জাহান মিশু বলেন, নদীর সঙ্গে নদীপাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই মানুষ ও নদী—দুটোকেই একসঙ্গে সুরক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে।
kalprakash.com/IM