রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬ | ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ২৪ সফর, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৭:৪২:১৭

জমি কেটে ঘিরে ফের সংঘাতের মেঘ, রাজাগাঁওয়ে আতঙ্কে এলাকাবাসী

রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:০১
শেয়ার: mail
জমি কেটে ঘিরে ফের সংঘাতের মেঘ, রাজাগাঁওয়ে আতঙ্কে এলাকাবাসী

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে চলা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আবারও জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। ঠাকুরগাঁওয়ের রাজাগাঁওয়ে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে কেটে রোপা ধানের চারা রোপণ করে এলাকা ঘিরে ফেলার ঘটনায় নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাজাগাঁওয়ের বিতর্কিত জমিটি কালু রাখা নামের এক ব্যক্তির পৈতৃক সম্পত্তি। তিনি তিন পুত্র, তিন কন্যা ও স্ত্রী আমেনা খাতুনকে রেখে মারা যান। পরবর্তীতে ওয়ারিশ সূত্রে কালু রাখার দুই কন্যা জিন্নাতুন ও সুফিয়া খাতুন তাঁদের ন্যায্য প্রাপ্য সম্পত্তি পাননি বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি তাঁদের মা আমেনা খাতুনের আইনি স্বত্বকেও অস্বীকার করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

কালু রাখার ওয়ারিশ ও দৌহিত্র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, কালু রাখা মারা যাওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে সম্পত্তি মোট ৭টি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে কালু রাখার এক ছেলে আব্দুর রহমান খান তাঁর ভাগের ৫০ শতক জমি লতিফুর রহমান নীলের কাছে বিক্রি করেন, যা হস্তান্তরিত হয়ে বর্তমানে জাহাঙ্গীর আলমের ভোগদখলে রয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, এই জমিকে কেন্দ্র করেই পূর্বে একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, যা বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষী পর্যায়ে চলমান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “ইতোপূর্বে স্থানীয় ১৭টি শালিস-দরবারে এবং লিগ্যালি সমস্ত নথিপত্র পরীক্ষা করে আমাদের পক্ষে ফয়সালা দেওয়া হলেও প্রতিপক্ষ পবার উদ্দিন ও তাঁর সহযোগীরা তা মানছে না। নেপথ্যে একটি মহল ইন্ধন জোগানোর কারণে হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা গায়ের জোরে চারা রোপণ করে নতুন করে জমি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।”

জমিটির অপর ক্রেতা মোঃ মহাইমিনুল ইসলাম জানান, তাঁরা বৈধ দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকলেও পবার উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন চক্রটি আদালতের চলমান মামলা ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে তোয়াক্কা না করে জমি দখলের হুমকি দিচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পবার উদ্দিন পাল্টা দাবি করে বলেন, “আমাদের দুটি খতিয়ানের জমি রয়েছে। ওয়ারিশদের মধ্যে একটি খতিয়ানে আমার ফুফুর নাম ছিল, তাঁর কাছ থেকে আমরা জমি কিনেছি। তবে মূল বিরোধের জমিতে আমাদের নাম না থাকলেও সেটি আমরা বহুদিন যাবৎ ভোগদখলে রেখেছিলাম। পরবর্তীতে ২০১৬-১৭ সালের দিকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর মামলার কারণে আমরা পলাতক হলে প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক জমিটির দখল নেয়।”

আইনি জটিলতার কথা তুলে ধরে পবার উদ্দিন আরও বলেন, “আদালতে বাটোয়ারা (বণ্টন) মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। আদালত যদি তাঁদের পক্ষে নির্দেশ দেয় তবে আমরা জমি ছেড়ে দেব। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিপক্ষ গায়ের জোরে জমি দখলে রেখেছে। আমরা শান্তি চাই এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় আছি।”

জমি ঘিরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও উত্তেজনায় এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত রক্তক্ষয় ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাজাগাঁওয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সাধারণ গ্রামবাসীরা।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
জমি কেটে ঘিরে ফের সংঘাতের মেঘ, রাজাগাঁওয়ে আতঙ্কে এলাকাবাসী
Logo
রোববার, ৯ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

জমি কেটে ঘিরে ফের সংঘাতের মেঘ, রাজাগাঁওয়ে আতঙ্কে এলাকাবাসী

বিস্তারিত কমেন্টে