জনবল সংকটে আট বছর ধরে বন্ধ রয়েছে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার তালুক জামিরা প্রাণী কল্যাণ কেন্দ্র। কেন্দ্রটির উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (কৃত্রিম প্রজনন) ও উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ)—দুটি পদই ২০১৮ সালের পর থেকে শূন্য। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে গবাদিপশুর চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে না। এতে উপজেলার হরিনাথপুরসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের পশুর চিকিৎসার জন্য অন্যত্র যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অন্তত একজন কর্মকর্তা দিয়েও কেন্দ্রটি চালু করা হলে তাঁদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। কারণ কেন্দ্রটির অবকাঠামো এখনো ভালো রয়েছে এবং সামনে পাকা সড়ক থাকায় যোগাযোগব্যবস্থাও সহজ।
পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ১১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ছয়জন। জনবল সংকটের কারণে তালুক জামিরা প্রাণী কল্যাণ কেন্দ্রে নতুন করে কর্মকর্তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তালুক জামিরা বাজারের পশ্চিম পাশে ৮ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত কেন্দ্রটির অবকাঠামো এখনো ঠিকঠাক রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেখানে গবাদিপশু নিয়ে চিকিৎসা নিতে কৃষকদের আনাগোনা নেই।
প্রান্তিক কৃষকদের গবাদিপশুর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৮৫ সালে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। একসময় এখানে দুজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতেন। হরিনাথপুর ইউনিয়নের পাশাপাশি মনোহরপুর, পবনাপুর, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই, সাঘাটা উপজেলার পদুমশহর এবং সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের কৃষকেরাও গবাদিপশুর চিকিৎসার জন্য এ কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করতেন।
স্থানীয়রা জানান, একসময় নিয়মিত গবাদিপশুর চিকিৎসাসেবা পাওয়া গেলেও এখন অসুস্থ গরু-বাছুর নিয়ে তাঁদের অন্যত্র যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগে। বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এ ভোগান্তি আরও বেশি।
স্থানীয় নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় গরু-বাছুরের চিকিৎসা করাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অন্তত একজন কর্মকর্তা দিয়েও কেন্দ্রটি চালু করা হলে এলাকার কৃষকদের ভোগান্তি কমবে।
পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুন কুমার দত্ত বলেন, ‘লোকবল সংকটে তালুক জামিরা প্রাণী কল্যাণ কেন্দ্রটি বর্তমানে বন্ধ রাখতে হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালেও ১১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ছয়জন। লোকবল কম থাকায় ওই কল্যাণ কেন্দ্রে এখনই নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রটি চালুর বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির সেবা ফিরে পাওয়া এখন স্থানীয় কৃষকদের প্রধান প্রত্যাশা। তাঁদের মতে, নতুন অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন নেই; বিদ্যমান কেন্দ্রটিতে প্রয়োজনীয় জনবল দিলেই আবার চালু করা সম্ভব।
kalprakash.com/IM