কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন সময়ে একাডেমিক কার্যক্রমে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করতে স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়নসহ চার দফা দাবিতে উপাচার্যের দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছে কুবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপাচার্যের দপ্তরে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি অনেক নারী শিক্ষার্থীকে মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করতে হয়। গর্ভকালীন ও সন্তান জন্মের পরবর্তী সময়ে শারীরিক অসুস্থতা, চিকিৎসা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের কারণে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত উপস্থিতি পূরণে ব্যর্থ হয়ে জরিমানা প্রদান, সেমিস্টার ড্রপ বা শিক্ষাবর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় পড়েন তাঁরা। দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে মাতৃত্বকালীন বিশেষ সুবিধা চালু রয়েছে উল্লেখ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও একটি স্থায়ী ও সুনির্দিষ্ট মাতৃত্বকালীন একাডেমিক সহায়তা নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে চারটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—মাতৃত্বকালীন সময়ে উপস্থিতি ৬০ শতাংশের কম হলেও জরিমানা মওকুফ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া, ইনকোর্স, মিডটার্ম ও অ্যাসাইনমেন্টের ক্ষেত্রে নমনীয়তা প্রদর্শন এবং পরবর্তী সময়ে সেগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ রাখা, প্রসবকালীন ও পরবর্তী জরুরি অবস্থা বিবেচনায় কমপক্ষে তিন মাসের ছুটি মঞ্জুর এবং নীতিমালার প্রয়োজনীয় শিথিলতা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই বিভাগীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক সৈয়দা নাজিফা নাফিল বলেন, ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বলেছিলেন, আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে একটি শিক্ষিত জাতি দেব। একজন নারীর জীবনে মাতৃত্ব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে এ সময় শারীরিক ও মানসিক চাপের কারণে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম ও ক্লাসে উপস্থিতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে জরিমানা কিংবা ইয়ার ড্রপের মতো পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনেকের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। আমরা চাই, মাতৃত্বকালীন সময়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও হয়রানিমুক্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা হোক, যেন কোনো নারী শিক্ষার্থীকে পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে পড়তে না হয়।