লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর অব্যয়িত ৩৮ লাখ ৪০ হাজার ৯১০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি আর্থিক বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করে এই উদ্যোগ নেন রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান। সরকারি অর্থের সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও শতভাগ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপকে এক ইতিবাচক ও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার ২৮ জুলাই দুপুরে বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পরিতোষ কুমার বিশ্বাস।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের যৌথ বাস্তবায়নে উপজেলার ৬ নম্বর লামচর ইউনিয়নের দাসপাড়া–শ্যামগঞ্জ খাল পুনঃখনন প্রকল্পে মোট ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ শতভাগ শেষ হওয়ার পর সমস্ত ব্যয় নির্বাহ করে প্রাক্কলিত বরাদ্দের ৩৮ লাখ ৪০ হাজার ৯১০ টাকা উদ্বৃত্ত থেকে যায়। পরে সরকারি আর্থিক বিধিবিধান মেনে ওই সম্পূর্ণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষে বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এই উদ্যোগ সরকারি অর্থের অপচয় রোধ, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একই সাথে তারা ইউএনও কাজী আতিকুর রহমানের এই সততা ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ সম্পূর্ণ সঠিকভাবে সম্পন্ন করে যাচাই-বাছাই শেষে যে অর্থ সাশ্রয় ও অব্যয়িত ছিল, তা সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। সরকারি তহবিলের অপচয় রোধ করে এর শতভাগ সঠিক ব্যবহার ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”
kalprakash.com/IM