বাংলাদেশ ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ৬৬ কর্মদিবসে ১,২৬৬ মাদক কারবারি ও সেবনকারী গ্রেফতার: পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ Logo পাবিপ্রবিতে ইতিহাস বিভাগের নবীনবরণ ও পাঠদান কার্যক্রমের উদ্বোধন Logo বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে বিনির্মাণ করা হবে: মাহদী আমিন Logo নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য নিজেই ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায় Logo বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ বাঁচাতে না পারলে ঢাকা রক্ষা সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Logo পরিবেশ রক্ষায় শিশুদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আহ্বান Logo হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে সমঝোতার আহ্বান ওমানের Logo হরমুজের পর আরও রপ্তানি করিডোর বন্ধের হুমকি আইআরজিসির Logo ১৫ জুলাই: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, যেভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে জুলাই আন্দোলন Logo আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল, ম্যাচের ভাগ্য গড়বেন কি মেসি?

১৫ জুলাই: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, যেভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে জুলাই আন্দোলন

২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের হামলার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নারী শিক্ষার্থীসহ শত শত আন্দোলনকারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আন্দোলন বিস্তৃত হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও স্কুলপর্যায়েও। ধারাবাহিক এই আন্দোলনের পরিণতিতে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমন্বিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। সেখানে হেলমেট পরিহিত ছাত্রলীগ কর্মী ও নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের বেশিরভাগই ছিলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীরাও ছিলেন। পাশাপাশি কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীও আহত হন।

সকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে লাঠি, লোহার রডসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে ছাত্রলীগের শত শত নেতাকর্মী ক্যাম্পাসে জড়ো হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নারী শিক্ষার্থীদেরও মারধর করা হয়। সংঘর্ষে আহত অনেক শিক্ষার্থী রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

দুপুরে আন্দোলনকারীদের মিছিল বিভিন্ন আবাসিক হলের দিকে অগ্রসর হলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আবারও হামলার অভিযোগ ওঠে। আহত শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলেও সেখানে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করা হয়। সন্ধ্যার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, একুশে হল ও দোয়েল চত্বর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সন্ধ্যার পর একদল ছাত্রলীগ কর্মী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ ওঠে। সে সময় সেখানে আহত আন্দোলনকারীরা চিকিৎসাধীন ছিলেন। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় এবং রোগী-স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৯৭ জন এবং সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে আরও ছয়জন চিকিৎসা নেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি ছিল এবং অনেকের অবস্থা গুরুতর ছিল।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও সংঘর্ষ

শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও একই দিনে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়:
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শিক্ষার্থীরা মিছিল শুরু করেন। রাত ৭টার দিকে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। তাঁদের মধ্যে ২০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। মধ্যরাতে সেখানে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়:
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, ছাত্রলীগ কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের চাবি নিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ছাত্রনেতা তালাত মাহমুদকে মারধর করে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়:
আন্দোলনে অংশ নেওয়া অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আহত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়।

ইডেন মহিলা কলেজ:
রাত সাড়ে ১১টার দিকে চারজন নারী শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়:
সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে ছাত্রলীগের হামলায় অন্তত চারজন শিক্ষার্থী আহত হন। আহত এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তাঁদের মারধর করে হল থেকে বের না হওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকার স্লোগানের জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। একই দিনে এক সরকারি অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আন্দোলনকারীদের স্লোগান নিয়ে মন্তব্য করেন।

kalprakash.com/IM

জনপ্রিয় সংবাদ

৬৬ কর্মদিবসে ১,২৬৬ মাদক কারবারি ও সেবনকারী গ্রেফতার: পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ

১৫ জুলাই: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, যেভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে জুলাই আন্দোলন

প্রকাশিত: ০১:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের হামলার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নারী শিক্ষার্থীসহ শত শত আন্দোলনকারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আন্দোলন বিস্তৃত হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও স্কুলপর্যায়েও। ধারাবাহিক এই আন্দোলনের পরিণতিতে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমন্বিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। সেখানে হেলমেট পরিহিত ছাত্রলীগ কর্মী ও নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের বেশিরভাগই ছিলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীরাও ছিলেন। পাশাপাশি কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীও আহত হন।

সকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে লাঠি, লোহার রডসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে ছাত্রলীগের শত শত নেতাকর্মী ক্যাম্পাসে জড়ো হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নারী শিক্ষার্থীদেরও মারধর করা হয়। সংঘর্ষে আহত অনেক শিক্ষার্থী রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

দুপুরে আন্দোলনকারীদের মিছিল বিভিন্ন আবাসিক হলের দিকে অগ্রসর হলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আবারও হামলার অভিযোগ ওঠে। আহত শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলেও সেখানে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করা হয়। সন্ধ্যার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, একুশে হল ও দোয়েল চত্বর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সন্ধ্যার পর একদল ছাত্রলীগ কর্মী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ ওঠে। সে সময় সেখানে আহত আন্দোলনকারীরা চিকিৎসাধীন ছিলেন। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় এবং রোগী-স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৯৭ জন এবং সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে আরও ছয়জন চিকিৎসা নেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি ছিল এবং অনেকের অবস্থা গুরুতর ছিল।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও সংঘর্ষ

শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও একই দিনে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়:
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শিক্ষার্থীরা মিছিল শুরু করেন। রাত ৭টার দিকে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। তাঁদের মধ্যে ২০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। মধ্যরাতে সেখানে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়:
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, ছাত্রলীগ কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের চাবি নিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ছাত্রনেতা তালাত মাহমুদকে মারধর করে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়:
আন্দোলনে অংশ নেওয়া অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আহত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়।

ইডেন মহিলা কলেজ:
রাত সাড়ে ১১টার দিকে চারজন নারী শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়:
সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে ছাত্রলীগের হামলায় অন্তত চারজন শিক্ষার্থী আহত হন। আহত এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তাঁদের মারধর করে হল থেকে বের না হওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকার স্লোগানের জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। একই দিনে এক সরকারি অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আন্দোলনকারীদের স্লোগান নিয়ে মন্তব্য করেন।

kalprakash.com/IM