বাংলাদেশ ০৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ৬৬ কর্মদিবসে ১,২৬৬ মাদক কারবারি ও সেবনকারী গ্রেফতার: পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ Logo পাবিপ্রবিতে ইতিহাস বিভাগের নবীনবরণ ও পাঠদান কার্যক্রমের উদ্বোধন Logo বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে বিনির্মাণ করা হবে: মাহদী আমিন Logo নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য নিজেই ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায় Logo বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ বাঁচাতে না পারলে ঢাকা রক্ষা সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Logo পরিবেশ রক্ষায় শিশুদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আহ্বান Logo হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে সমঝোতার আহ্বান ওমানের Logo হরমুজের পর আরও রপ্তানি করিডোর বন্ধের হুমকি আইআরজিসির Logo ১৫ জুলাই: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, যেভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে জুলাই আন্দোলন Logo আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল, ম্যাচের ভাগ্য গড়বেন কি মেসি?

জুলাই শহীদদের কাছে আমরা চিরঋণী: ডা. শফিকুর রহমান

১৬ জুলাই শহীদ দিবসকে জাতীয় ইতিহাসের গৌরবময় ও বেদনাবিধুর দিন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি মহান জুলাই শহীদ দিবসে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সব শাখা সংগঠন ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা জুলাই শহীদদের কাছে চিরঋণী।

বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৬ জুলাই জুলাই শহীদ দিবস আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক গৌরবময় ও বেদনাবিধুর দিন। এ দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করি সেই সব শহীদ ভাই-বোনকে, যারা বৈষম্য, জুলুম-নির্যাতন এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন। আমি সব শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহত ও নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিজের অধিকার আদায়ের দাবিতে পুলিশের সামনে দাঁড়ান। সে সময় পুলিশ গুলি করে তাকে হত্যা করে। শহীদ আবু সাঈদের এই আত্মত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশে কোটাবিরোধী আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, এই গণআন্দোলন ছিল আমাদের ইতিহাসের একটি যুগান্তকারী অধ্যায়, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী, নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ অভিন্ন দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসেন। একপর্যায়ে ছাত্রদের এই আন্দোলন শেখ হাসিনার সরকারের পতনের এক দফার আন্দোলনে পরিণত হয়।

তিনি দাবি করেন, আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। এছাড়া কয়েক হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে শারীরিক ক্ষতির শিকার হন।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। এর মাধ্যমে দেশের মানুষ স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি লাভ করে এবং বর্তমানে জনগণ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি এসব অর্জনকে জুলাই গণআন্দোলনের ফল বলে উল্লেখ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদরা নিজেদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে জাতিকে এক মহৎ ঋণে আবদ্ধ করে গেছেন। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমেই তাদের প্রতি দায়িত্ব আংশিকভাবে পালন করা সম্ভব।

তিনি আগামী ১৬ জুলাই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালনের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সব শাখা সংগঠন এবং দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

kalprakash.com/IM

জনপ্রিয় সংবাদ

৬৬ কর্মদিবসে ১,২৬৬ মাদক কারবারি ও সেবনকারী গ্রেফতার: পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ

জুলাই শহীদদের কাছে আমরা চিরঋণী: ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশিত: ১২:৪৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

১৬ জুলাই শহীদ দিবসকে জাতীয় ইতিহাসের গৌরবময় ও বেদনাবিধুর দিন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি মহান জুলাই শহীদ দিবসে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সব শাখা সংগঠন ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা জুলাই শহীদদের কাছে চিরঋণী।

বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৬ জুলাই জুলাই শহীদ দিবস আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক গৌরবময় ও বেদনাবিধুর দিন। এ দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করি সেই সব শহীদ ভাই-বোনকে, যারা বৈষম্য, জুলুম-নির্যাতন এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন। আমি সব শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহত ও নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিজের অধিকার আদায়ের দাবিতে পুলিশের সামনে দাঁড়ান। সে সময় পুলিশ গুলি করে তাকে হত্যা করে। শহীদ আবু সাঈদের এই আত্মত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশে কোটাবিরোধী আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, এই গণআন্দোলন ছিল আমাদের ইতিহাসের একটি যুগান্তকারী অধ্যায়, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী, নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ অভিন্ন দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসেন। একপর্যায়ে ছাত্রদের এই আন্দোলন শেখ হাসিনার সরকারের পতনের এক দফার আন্দোলনে পরিণত হয়।

তিনি দাবি করেন, আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। এছাড়া কয়েক হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে শারীরিক ক্ষতির শিকার হন।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। এর মাধ্যমে দেশের মানুষ স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি লাভ করে এবং বর্তমানে জনগণ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি এসব অর্জনকে জুলাই গণআন্দোলনের ফল বলে উল্লেখ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদরা নিজেদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে জাতিকে এক মহৎ ঋণে আবদ্ধ করে গেছেন। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমেই তাদের প্রতি দায়িত্ব আংশিকভাবে পালন করা সম্ভব।

তিনি আগামী ১৬ জুলাই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালনের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সব শাখা সংগঠন এবং দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

kalprakash.com/IM