বাংলাদেশ ১০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo দখলদারদের আবেদনে থেমে গেল দেলভাষানী খাল উদ্ধার অভিযান, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের কঠোরতা Logo সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ দুই আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার Logo কুবি ডান্স ক্লাবের নেতৃত্বে শান্তা-জয় Logo গুণগত সংবাদ প্রকাশে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই: সোহাগ আরেফিন Logo মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের আমার এলাকায় ঠাঁই হবে না: এমপি সেলিম রেজা হাবিব Logo চাঁদা না দেওয়ায় শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ, পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ Logo নোবেল না পাওয়ার আক্ষেপ আবারও ট্রাম্পের Logo এক কারণে নরওয়ের ভয়ে কাঁপছে ব্রাজিল Logo ঘরোয়া আয়োজনে গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করলেন আমির খান Logo ডিজিটাল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে তথ্য ও সম্প্রচার আইন আধুনিকায়নের উদ্যোগ

দখলদারদের আবেদনে থেমে গেল দেলভাষানী খাল উদ্ধার অভিযান, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের কঠোরতা

বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দেলভাষানী খাল দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে নির্ধারিত উচ্ছেদ অভিযান শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। ঘটনাস্থলে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও স্থানীয় দখলদারদের অনুরোধ এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এতে এলাকাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেলভাষানী খালে পৌঁছান। পরে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় খালের ওপর মাছের ঘের পরিচালনাকারী দখলদাররা তাঁদের মাছ তুলে নেওয়ার সুযোগ চেয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ রাখার আবেদন করেন।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে প্রশাসন তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ না করে দখলদারদের দুই সপ্তাহ সময় দেয়। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের একাংশ তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে মাছ চাষ করা হলেও এবারও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলো না।

স্থানীয়দের দাবি, খাল দখলের কারণে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষের চলাচলেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে খালটি উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। নির্ধারিত দিনে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করবে—এই প্রত্যাশায় এলাকাবাসী আশাবাদী হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এলাকার বাসিন্দারা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই যদি দখলদারদের অনুরোধে অভিযান বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে অবৈধ দখলদাররা আরও উৎসাহিত হবে। তাঁরা দ্রুত খাল উদ্ধার করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।

অন্যদিকে অভিযুক্ত সেলিম কাজী খাল দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বার্থে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে খাল উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, সরকারের চলমান খাল উদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাছ তুলে নেওয়ার সুযোগ দিতে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাময়িকভাবে সময় বাড়ানো হয়েছে।

তবে সচেতন মহলের মতে, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত না হলে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অবৈধ দখলের প্রবণতাও বাড়তে পারে।

রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
দখলদারদের আবেদনে থেমে গেল দেলভাষানী খাল উদ্ধার অভিযান, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের কঠোরতা
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

দখলদারদের আবেদনে থেমে গেল দেলভাষানী খাল উদ্ধার অভিযান, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের কঠোরতা

দখলদারদের আবেদনে থেমে গেল দেলভাষানী খাল উদ্ধার অভিযান, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের কঠোরতা

প্রকাশিত: ০৭:৪৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দেলভাষানী খাল দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে নির্ধারিত উচ্ছেদ অভিযান শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। ঘটনাস্থলে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও স্থানীয় দখলদারদের অনুরোধ এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এতে এলাকাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেলভাষানী খালে পৌঁছান। পরে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় খালের ওপর মাছের ঘের পরিচালনাকারী দখলদাররা তাঁদের মাছ তুলে নেওয়ার সুযোগ চেয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ রাখার আবেদন করেন।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে প্রশাসন তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ না করে দখলদারদের দুই সপ্তাহ সময় দেয়। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের একাংশ তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে মাছ চাষ করা হলেও এবারও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলো না।

স্থানীয়দের দাবি, খাল দখলের কারণে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষের চলাচলেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে খালটি উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। নির্ধারিত দিনে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করবে—এই প্রত্যাশায় এলাকাবাসী আশাবাদী হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এলাকার বাসিন্দারা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই যদি দখলদারদের অনুরোধে অভিযান বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে অবৈধ দখলদাররা আরও উৎসাহিত হবে। তাঁরা দ্রুত খাল উদ্ধার করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।

অন্যদিকে অভিযুক্ত সেলিম কাজী খাল দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বার্থে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে খাল উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, সরকারের চলমান খাল উদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাছ তুলে নেওয়ার সুযোগ দিতে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাময়িকভাবে সময় বাড়ানো হয়েছে।

তবে সচেতন মহলের মতে, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত না হলে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অবৈধ দখলের প্রবণতাও বাড়তে পারে।

রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
দখলদারদের আবেদনে থেমে গেল দেলভাষানী খাল উদ্ধার অভিযান, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের কঠোরতা