বাংলাদেশ ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo দখলদারদের আবেদনে থেমে গেল দেলভাষানী খাল উদ্ধার অভিযান, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের কঠোরতা Logo সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ দুই আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার Logo কুবি ডান্স ক্লাবের নেতৃত্বে শান্তা-জয় Logo গুণগত সংবাদ প্রকাশে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই: সোহাগ আরেফিন Logo মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের আমার এলাকায় ঠাঁই হবে না: এমপি সেলিম রেজা হাবিব Logo চাঁদা না দেওয়ায় শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ, পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ Logo নোবেল না পাওয়ার আক্ষেপ আবারও ট্রাম্পের Logo এক কারণে নরওয়ের ভয়ে কাঁপছে ব্রাজিল Logo ঘরোয়া আয়োজনে গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করলেন আমির খান Logo ডিজিটাল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে তথ্য ও সম্প্রচার আইন আধুনিকায়নের উদ্যোগ

মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের আমার এলাকায় ঠাঁই হবে না: এমপি সেলিম রেজা হাবিব

মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব। তিনি এসব অপরাধ দমনে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে পাবনার সুজানগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সুজানগর বাজারে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকায় মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের কোনো স্থান হবে না। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুটি অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে এবং একটি হটলাইন নম্বর চালু করা হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার সঙ্গে রাজনীতি করেন—এমন কেউ যদি এসব অপরাধে জড়িত থাকেন, তাঁরও কোনো ছাড় নেই।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার মাদক নির্মূলে কাজ শুরু করেছে। সমাজ থেকে অপরাধ দূর করতে হলে সবার আগে নীতি-নৈতিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।”

প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সংসদ সদস্য বলেন, “নির্বাচনী এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে কমিটিতে রাখা হবে না। মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসীদের পৃথক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হবেন না। কেউ যদি প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান, তাহলে তাঁর দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।”

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সুজানগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদি হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, এ ক্ষেত্রে সামাজিক প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা গড়ে তোলাও জরুরি। জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা পেলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর হবে।

পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, “পাবনায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। গত দুই মাসে সহস্রাধিক মাদকসেবী ও কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।”

তিনি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সন্তানদের প্রতি আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে হবে। সন্তানদের মাদক ও অপরাধ সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ।

এ সময় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) পাবনার উপপরিচালক তৌফিক ইকবাল, জেলা আনসার ও ভিডিপির কমান্ড্যান্ট মাহবুবুর রহমান সরকার, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শহিদুল মান্নাফ কবির, বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোনাল্ড চাকমা, সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অ্যাডভোকেট আরশেদ আলম, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, র‍্যাব, পুলিশ, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপির স্থানীয় নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের আমার এলাকায় ঠাঁই হবে না: এমপি সেলিম রেজা হাবিব
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

দখলদারদের আবেদনে থেমে গেল দেলভাষানী খাল উদ্ধার অভিযান, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের কঠোরতা

মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের আমার এলাকায় ঠাঁই হবে না: এমপি সেলিম রেজা হাবিব

প্রকাশিত: ০৭:১৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব। তিনি এসব অপরাধ দমনে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে পাবনার সুজানগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সুজানগর বাজারে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকায় মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের কোনো স্থান হবে না। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুটি অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে এবং একটি হটলাইন নম্বর চালু করা হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার সঙ্গে রাজনীতি করেন—এমন কেউ যদি এসব অপরাধে জড়িত থাকেন, তাঁরও কোনো ছাড় নেই।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার মাদক নির্মূলে কাজ শুরু করেছে। সমাজ থেকে অপরাধ দূর করতে হলে সবার আগে নীতি-নৈতিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।”

প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সংসদ সদস্য বলেন, “নির্বাচনী এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে কমিটিতে রাখা হবে না। মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসীদের পৃথক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হবেন না। কেউ যদি প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান, তাহলে তাঁর দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।”

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সুজানগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদি হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, এ ক্ষেত্রে সামাজিক প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা গড়ে তোলাও জরুরি। জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা পেলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর হবে।

পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, “পাবনায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। গত দুই মাসে সহস্রাধিক মাদকসেবী ও কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।”

তিনি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সন্তানদের প্রতি আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে হবে। সন্তানদের মাদক ও অপরাধ সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ।

এ সময় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) পাবনার উপপরিচালক তৌফিক ইকবাল, জেলা আনসার ও ভিডিপির কমান্ড্যান্ট মাহবুবুর রহমান সরকার, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শহিদুল মান্নাফ কবির, বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোনাল্ড চাকমা, সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অ্যাডভোকেট আরশেদ আলম, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, র‍্যাব, পুলিশ, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপির স্থানীয় নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের আমার এলাকায় ঠাঁই হবে না: এমপি সেলিম রেজা হাবিব