সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ | ৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১০ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৬:৪৮:৪৪

বুদ্ধিমান মানুষ কখনো আখেরাত বিক্রি করে না

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৬:৪৬
শেয়ার: mail
বুদ্ধিমান মানুষ কখনো আখেরাত বিক্রি করে না

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

আল্লাহ তাআলা সুরা আদিয়াতে বলেন,

শপথ তাদের, যারা হাঁপাতে হাঁপাতে ছুটে চলে। আগুনের ফুলকি ছিটিয়ে।
— (সুরা আদিয়াত: ১-২)

এখানে কারা হাঁপাতে হাঁপাতে ছুটছে, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। আরবের তৎকালীন প্রেক্ষাপট বিবেচনায় অনেক মুফাসসির বলেছেন, এখানে যুদ্ধের ঘোড়ার কথা বোঝানো হয়েছে। কেউ বলেছেন, উটের কথা। আবার একদল আলেমের মতে, এখানে মানুষের কথাই বলা হয়েছে। কারণ পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ মানুষের অকৃতজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন—

নিশ্চয়ই মানুষ তার প্রতিপালকের প্রতি অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ। আর সে ধন-সম্পদের প্রতি প্রবল আসক্ত।
— (সুরা আদিয়াত: ৬-৮)

আজকের পৃথিবীর দিকে তাকালে মনে হয়, মানুষ যেন সেই হাঁপাতে হাঁপাতে ছুটে চলা ঘোড়া। যুদ্ধক্ষেত্রে যেমন ঘোড়া ছুটতে ছুটতে শত্রুর এলাকায় প্রবেশ করে, তেমনি মানুষও দুনিয়ার মোহে ছুটতে ছুটতে লোভ, স্বার্থপরতা ও শয়তানের ফাঁদে আটকে যায়। তার একমাত্র চিন্তা হয়ে দাঁড়ায়—কীভাবে আরও অর্থ উপার্জন করা যায়, আরও জমি কেনা যায়, আরও সম্পদ অর্জন করা যায়।

এভাবে দুনিয়ার নেশায় মত্ত মানুষ বুঝতেই পারে না কখন শৈশব শেষ হয়ে যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্য আসে, কখন মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে যায়। ছুটন্ত ঘোড়া যেমন চারপাশে খেয়াল রাখে না, দুনিয়ার মোহে অন্ধ মানুষও তেমনি নিজের গন্তব্য ভুলে যায়।

একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সঙ্গে বসে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এরপর তিনি বললেন, তোমরা কি দুনিয়ার প্রকৃত চেহারা নিজের চোখে দেখতে চাও? সবাই সম্মতি দিলে তিনি তাদের নিয়ে মদিনার বাজারের পেছনে আবর্জনার স্তূপের কাছে গেলেন।

সেখানে দুর্গন্ধে সাহাবিরা নাক চেপে ধরলেন। তখন রাসুল (সা.) বললেন, তোমরা নাক চেপে ধরছ কেন? সাহাবিরা বললেন, প্রচণ্ড দুর্গন্ধের কারণে।

তিনি বললেন, দুনিয়ার দুর্গন্ধ এর চেয়েও বেশি।

এরপর আবর্জনার মধ্যে পড়ে থাকা একটি মৃত ছাগলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, যদি এটি অর্ধেক দামে বিক্রি করি, তোমরা কি কিনবে?

সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি বিনা মূল্যে দিলেও আমরা এটি নেব না।

তখন মহানবী (সা.) বললেন, আল্লাহর কাছে এই দুনিয়ার মূল্য এই মৃত ছাগলের চেয়েও কম। যে ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে আল্লাহকে ভালোবাসে এবং আখিরাতকে প্রাধান্য দেয়, তার কাছে দুনিয়ার মোহের কোনো মূল্য নেই। কিন্তু আফসোস, অনেক মানুষ এই তুচ্ছ দুনিয়ার বিনিময়ে চিরস্থায়ী আখিরাতকে বিসর্জন দিয়ে দেয়।

প্রিয় পাঠক, আমরা দুনিয়ার পেছনে ছুটতে ছুটতে বুঝতেই পারছি না কী হারিয়ে ফেলছি। যে পৃথিবীকে আমরা আঁকড়ে ধরেছি, সেটিই একদিন আমাদের ছেড়ে যাবে। অথচ এই জীবনই ছিল আখিরাতের পুঁজি সংগ্রহের সুযোগ।

কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় এ বাস্তবতাকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন—

বাঁ দিকের বুক পকেট সামলাতে সামলাতে
হায়! হায়! লোকটার ইহকাল পরকাল গেল!
অথচ আর একটু নিচে হাত দিলেই
সে পেত আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ—
তার হৃদয়।

আমাদের জীবনও যেন এমন না হয়। সম্পদ, বাড়ি, গাড়ি আর দুনিয়ার মোহে ছুটতে ছুটতে যেন হৃদয়ের ডাক, আত্মার চাহিদা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে ভুলে না যাই।

মনে রাখবেন, দুনিয়ার পেছনে ছুটলে দুনিয়া কখনো পূর্ণতা দেয় না। কিন্তু আল্লাহর পথে চললে তিনি দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় জগতেই কল্যাণ দান করেন।

তাই দুনিয়ার নয়, ছুটুন আল্লাহর পথে। তাহলেই দুনিয়া আপনার পেছনে আসবে। আর যদি দুনিয়াকেই জীবনের লক্ষ্য বানান, একদিন দেখবেন সবকিছু পেয়েও সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটি হারিয়ে ফেলেছেন।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ | Globe kalprakash.com

বুদ্ধিমান মানুষ কখনো আখেরাত বিক্রি করে না

বিস্তারিত কমেন্টে