কর্মব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ, ক্লান্তি ও অবসাদ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। এসব থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই বছরের শেষে দীর্ঘ ছুটির পরিকল্পনা করেন। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, একবারে দীর্ঘ ছুটি নেওয়ার চেয়ে নির্দিষ্ট বিরতিতে ছোট ছোট ছুটি নেওয়াই মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য বেশি উপকারী।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি দুই মাস অন্তর স্বল্প সময়ের জন্য ছুটি বা বিরতি নেওয়া কর্মজীবীদের মানসিক সতেজতা, উৎপাদনশীলতা এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষকদের মতে, দীর্ঘ বার্ষিক ছুটি সাময়িকভাবে মানসিক প্রশান্তি এনে দিলেও এর ইতিবাচক প্রভাব খুব বেশি দিন স্থায়ী হয় না। কাজে ফেরার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ছুটির প্রভাব কমে যায় এবং কর্মক্ষেত্রের চাপ আবারও ফিরে আসে।
অন্যদিকে, দুই মাস পরপর সংক্ষিপ্ত বিরতি নেওয়ার অভ্যাস কর্মীদের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এতে মস্তিষ্ক বিশ্রাম পাওয়ার সুযোগ পায় এবং নতুন উদ্যমে কাজে ফেরার শক্তি অর্জন করে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত বিরতি কাজ ও বিশ্রামের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক। যারা নির্দিষ্ট সময় পরপর বিশ্রাম নেন, তাদের কাজের মান, মনোযোগ এবং পারফরম্যান্স তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে।
বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, একবারে পুরো বার্ষিক ছুটি ব্যয় না করে বছরের বিভিন্ন সময়ে ছুটি ভাগ করে নেওয়া উচিত। এমনভাবে পরিকল্পনা করা যেতে পারে, যাতে প্রতি দুই মাস অন্তর অন্তত কয়েক দিনের জন্য কর্মব্যস্ততা থেকে দূরে থাকা সম্ভব হয়।
তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও উৎপাদনশীল থাকতে হলে শুধু কাজ নয়, বিশ্রামকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তাই ছুটির পরিকল্পনায় বড় সফরের পাশাপাশি নিয়মিত ছোট বিরতিকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।
কাল প্রকাশ ডেস্ক 
























