সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ | ১৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৮ সফর, ১৪৪৮ | রাত ১০:৩৫:৪৪

বেতন সময়মতো না পেলে আপনার করণীয় কী?

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৮
শেয়ার: mail
বেতন সময়মতো না পেলে আপনার করণীয় কী?

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

সারা মাসের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে প্রতিটি চাকুরিজীবীর মনেই এক চিলতে স্বস্তি নিয়ে আসে মোবাইলে আসা বেতনের সেই কাঙ্ক্ষিত মেসেজটি। তবে পরিস্থিতির ফেরে সেই মেসেজ আসতে দেরি হলে দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। বাড়ি ভাড়া, বাজার খরচ থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক নানা বিলের চাপে হিমশিম খেতে হয় অনেককেই।

কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে বা আতঙ্কিত না হয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বেতন সময়মতো না পেলে আপনার করণীয় কী হতে পারে, তা জেনে নেওয়া যাক—

প্রথমেই কারণ অনুসন্ধান করুন বেতন আসতে দেরি হলে প্রথমেই আতঙ্কিত হবেন না। অনেক সময় প্রশাসনিক বা ব্যাংকিং কারিগরি ত্রুটির কারণে এমনটা হতে পারে। তাই প্রথমেই প্রতিষ্ঠানের এইচআর বা অ্যাকাউন্টস বিভাগে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হোন যে, কোনো ডাটা এন্ট্রিতে ভুল বা ব্যাংক জটিলতা হয়েছে কি না। এছাড়া সমস্যাটি কেবল আপনার একার নাকি অন্য সহকর্মীদেরও একই অবস্থা, সেটিও কথা বলে জেনে নিন।

আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকুন বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মীদের অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী, মাস শেষ হওয়ার পরবর্তী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে কর্মীর বেতন পরিশোধ করা মালিকপক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক। যদি বেতন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে, তবে আপনি শ্রম আদালতে লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেন। আইন অনুযায়ী বিলম্বের জন্য আদালত ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে। এছাড়া যেকোনো আইনি সহায়তার জন্য শ্রম অধিদপ্তরের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন।

আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কৌশলী হোন বেতন দেরিতে আসলেও জীবনযাত্রা থেমে থাকে না। এই সময়ে আর্থিক সংকট সামলাতে বাড়ি ভাড়া, ইউটিলিটি বিল এবং খাবারের মতো মৌলিক ও জরুরি খরচগুলোকে অগ্রাধিকার দিন। ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি বা অন্য কোনো বড় বিল থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে পেমেন্টের সময় কিছুটা বাড়িয়ে নেওয়ার অনুরোধ করতে পারেন। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি সামলাতে প্রতি মাসের আয় থেকে সঞ্চয় করে ৩-৬ মাসের ইমারজেন্সি ফান্ড গড়ে তোলা উচিত।

পেশাদারিত্ব বজায় রাখা ও বিকল্প চিন্তা সংকটকালীন সময়ে কর্তৃপক্ষের সাথে বেতন নিয়ে হওয়া যাবতীয় আলাপ-আলোচনা, ইমেইল বা চিঠির রেকর্ড নিজের কাছে রাখুন। কর্মক্ষেত্রে সাময়িক সমস্যার কারণে কাজে ফাঁকি না দিয়ে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা শ্রেয়। তবে বেতন নিয়মিত দেরিতে হওয়া যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তবে নিজের ভবিষ্যতের স্বার্থে নতুন চাকরির খোঁজ শুরু করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward