গাড়ি কিংবা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি থেকে বের হওয়া পুরোনো বা পোড়া মবিল সাধারণত বর্জ্য হিসেবেই ফেলে দেওয়া হয়। তবে এবার সেই ফেলে দেওয়া মবিল কাজে লাগিয়ে একটি অভিনব ও সাশ্রয়ী রান্নার চুলা তৈরি করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার রামনাথ হাটের পল্লী চিকিৎসক ও স্থানীয় সাংবাদিক আলহাজ্ব ইব্রাহিম জামান। সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ও ইউটিউবের ভিডিও দেখে তৈরি এই চুলা নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, রামনাথ হাটের একটি ওয়ার্কশপে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জোড়া লাগিয়ে চুলাটি প্রস্তুত করা হয়। এই প্রযুক্তিতে একটি ছোট ব্লোয়ার ফ্যানের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত বাতাসের চাপ সৃষ্টি করে পাত্রে রাখা মবিলে আগুন জ্বালানো হয়। উদ্ভাবক ইব্রাহিম জামান জানান, মাত্র এক লিটার পুরোনো মবিল দিয়ে টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা রান্নার কাজ চালানো সম্ভব। পুরো চুলাটি তৈরিতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা।
এ বিষয়ে ইব্রাহিম জামান বলেন, “বর্তমানে বাজারে খড়ি বা জ্বালানি কাঠের দাম বেশ চড়া। এক মণ খড়ি কিনতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত গুনে নিতে হয়। ইউটিউবে মবিল ব্যবহারের একটি প্রযুক্তি দেখে আমারও আগ্রহ জাগে। কম খরচে রান্নার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এটি বেশ কার্যকর মনে হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মবিল অপচয় হয়। সেটিকে জ্বালানি হিসেবে পুনর্ব্যবহারের এই উদ্যোগ বেশ প্রশংসনীয় ও যুগোপযোগী।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা অবস্থায় পোড়া মবিল দহনে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ধোঁয়া সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ ধরনের চুলা বাণিজ্যিকভাবে বা বাসাবাড়িতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বায়ুনিরোধক ব্যবস্থা, ধোঁয়া নির্গমনের পাইপ এবং সঠিক অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে ব্যবহার করা সম্ভব হলে এটি গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি খরচে নতুন বিপ্লব আনতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
kalprakash.com/IM