বাংলাদেশে ডিজিটাল কনটেন্টের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে টিভি কেনার ধরনেও। আগে টিভি ছিল মূলত বিভিন্ন চ্যানেল দেখার মাধ্যম। এখন এটি হয়ে উঠেছে স্ট্রিমিং, ব্রাউজিং ও গেমিংয়ের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র। অনেক পরিবারের কাছেই টিভি এখন একসঙ্গে বিনোদনের প্রধান মাধ্যম। ফলে ক্রেতারা শুধু স্ক্রিনের আকার নয়, স্মার্ট ফিচার ও ইন্টারনেট সংযোগের সুবিধাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।
স্মার্ট টিভি কেনার সময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত এর অপারেটিং সিস্টেমে। Google TV, webOS বা Tizen—প্ল্যাটফর্মভেদে অ্যাপ সমর্থনে পার্থক্য রয়েছে। তাই নিয়মিত ব্যবহার করা স্ট্রিমিং অ্যাপগুলো নির্দিষ্ট মডেলে চলে কি না, তা কেনার আগে যাচাই করে নেওয়া উচিত। শুধু নতুন অবস্থায় অ্যাপ চললেই হবে না, ভবিষ্যতে কতদিন সফটওয়্যার আপডেট পাওয়া যাবে, সেটিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
ইন্টারনেটের গতি কম হলে শুধু 4K রেজোলিউশনের টিভি কিনলেই ভালো স্ট্রিমিং অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় না। তাই ঘরের ইন্টারনেট সংযোগের সক্ষমতাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। তা না হলে দামি টিভি কেনার পরও বাফারিংয়ের সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
রিমোটে ভয়েস কন্ট্রোল বা বিল্ট-ইন মাইক্রোফোনের মতো সুবিধা থাকলে অ্যাপ খুঁজে বের করা ও টিভি পরিচালনা করা আরও সহজ হয়। দীর্ঘমেয়াদে ঝামেলা এড়াতে ওয়ারেন্টির শর্ত এবং স্থানীয় সার্ভিস সুবিধা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করে নেওয়া উচিত।
একই মডেলের টিভির দাম বিভিন্ন বিক্রেতার কাছে ভিন্ন হতে পারে। তাই কেনার আগে একাধিক বিক্রেতার কাছে দাম যাচাই করে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
স্মার্ট ফিচার ও বাজেট অনুযায়ী তুলনা করতে বিডিস্টলে টিভির বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও দাম একসঙ্গে দেখে নিতে পারেন।
টিভি এখন শুধু বিনোদনের ডিভাইস নয়, বরং ঘরের ডিজিটাল জীবনযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তাই টিভি কেনার আগে শুধু স্ক্রিনের আকার নয়, এর স্মার্ট ফিচার, অপারেটিং সিস্টেম, ইন্টারনেট সুবিধা, সফটওয়্যার আপডেট, ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস সুবিধার বিষয়গুলোও বিবেচনা করা ভালো।
kalprakash.com/IM