কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছিল ফ্রান্স। চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে দিদিয়ে দেশমের দল, লক্ষ্য এবার হারানো সিংহাসন পুনরুদ্ধার। শক্তি, অভিজ্ঞতা ও তারকাখচিত স্কোয়াডের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে লে ব্লুদের।
ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি নিঃসন্দেহে তাদের আক্রমণভাগ। বর্তমান ফুটবলের অন্যতম সেরা কয়েকজন তারকাকে নিয়ে গড়া এই ফরোয়ার্ড লাইন প্রতিপক্ষের জন্য এক বড় আতঙ্ক। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ৯ জন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের সম্মিলিত বাজারমূল্য ৮০০ মিলিয়ন ইউরোরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই আক্রমণভাগের নেতৃত্বে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সঙ্গে আছেন উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে এবং দিয়াজ দুয়ে। শুধু এই চার ফুটবলারের বাজারমূল্যই প্রায় ৫৩০ মিলিয়ন ইউরো। গতি, ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা ও গোল করার দক্ষতায় সমৃদ্ধ এই তারকারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।
বিশেষ করে এমবাপ্পের বিস্ফোরক গতি এবং দেম্বেলে-ওলিসের আক্রমণ তৈরির ক্ষমতা ফ্রান্সকে দিয়েছে বাড়তি সুবিধা। কাগজে-কলমে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ নিয়েই বিশ্বকাপে নামছে দেশমের দল।
তবে শক্তির পাশাপাশি কিছু দুর্বলতাও রয়েছে ফরাসি শিবিরে। আক্রমণভাগে একের পর এক তারকা থাকলেও দলটি এখনো একজন খাঁটি নাম্বার নাইন বা বক্সভিত্তিক স্ট্রাইকারের অভাব অনুভব করে। অনেক সময় আক্রমণ সাজানো গেলেও ফিনিশিংয়ের ক্ষেত্রে সেই ঘাটতি চোখে পড়ে।
আরও বড় উদ্বেগের জায়গা লেফট-ব্যাক পজিশন। প্রথম একাদশে কে খেলবেন, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি দেশম। লুকাস দিনিয়ে ও থিও হার্নান্দেজ—দুজনই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ফলে তারা ওপরে উঠে গেলে রক্ষণভাগে ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা দ্রুতগতির প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রক্ষণভাগে আরেকটি বড় প্রশ্নচিহ্ন লুকাস হার্নান্দেজকে ঘিরে। অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার দীর্ঘদিন ধরেই ইনজুরির সঙ্গে লড়ছেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার অনুপস্থিতি কিংবা পূর্ণ ফিটনেসে না থাকা ফ্রান্সের ডিফেন্সকে দুর্বল করে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, প্রতিভা ও তারকাখচিত স্কোয়াডের কারণে বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার ফ্রান্স। তবে শিরোপার পথে এগোতে হলে আক্রমণভাগের পাশাপাশি রক্ষণেও ভারসাম্য খুঁজে বের করতে হবে দেশমকে। কারণ বিশ্বকাপের মতো আসরে ছোট একটি দুর্বলতাও বড় স্বপ্ন ভেঙে দিতে পারে।
kalprakash.com/SAS
অনলাইন ডেস্ক 






















