পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন দলেরই একাংশের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (৬ জুন) রাতে ছাইকোলা বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা অভিযুক্ত দুই নেতার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাইকোলা বাজারে টোল আদায় ও স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ছাইকোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদের অনুসারীদের সঙ্গে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিকের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার ছাইকোলা বাজার মোড়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা দুই দফা মুখোমুখি হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরপর রাতে আতিকুর রহমান আতিকের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেন। এ সময় হারুন অর রশিদ ও রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয়। পথসভায় বক্তব্য দেন সাগর হোসেন, আল আমিন হোসেন, আতিকুর রহমান আতিকসহ আরও কয়েকজন।
ছাইকোলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক অভিযোগ করে বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে হারুন অর রশিদ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি করছেন। রাকিবুল ইসলামসহ তার সহযোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তাই আমরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, “চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। অন্য একটি বিরোধকে আড়াল করতে আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। সম্প্রতি ছাত্রদলের দুই কর্মীকে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কয়েকজন মারধর করে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এখন সেই ঘটনার রেশ ধরে আমাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে।”
একইভাবে অভিযোগ নাকচ করে ছাইকোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, “এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অপপ্রচার। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে ভুল ধারণা তৈরি করা হয়েছে। সেই কারণেই কিছু লোক আমাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে।”
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ছাইকোলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই দফা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।
পাবনা প্রতিনিধি 





















