বাংলাদেশ ০৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo সীমান্তে চরম দুর্ভোগ: পুশ ইনের চেষ্টায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন ১০ নারী-শিশু-পুরুষের Logo চাঁদপুরে গবেষণাভিত্তিক ফিকশন গ্রন্থ ‘টেইল অব হিলসা অ্যান্ড আ বয়’-এর মোড়ক উন্মোচন Logo ট্রেনে উঠতে না পেরে পাথর নিক্ষেপ, যুবক গ্রেপ্তার Logo পুলিশ সদস্যকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা Logo সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করছে সরকার: অর্থ উপদেষ্টা Logo রাজধানীতে গ্যাস বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৬ Logo বিদ্যুৎ খাতে এখনো দুর্নীতির বোঝা বহন করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী Logo আধুনিক ল্যাব ও মান নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo নাগরিকরা কতটা উপকৃত হচ্ছেন, সেটির মূল্যায়ন জরুরি: মির্জা ফখরুল Logo সমালোচনার মুখে বিশ্বকাপে পানির বোতল নীতিতে ছাড় দিল ফিফা

পুলিশ সদস্যকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা

যশোরের শার্শায় এক পুলিশ সদস্যকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্য মামুন হাসান ট্যুরিস্ট পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকায় নায়েক পদে কর্মরত।

মামলাটি করেছেন তার ছোট ভাই মেহেদী হাসান রয়েল। গত ৪ জুন শার্শা থানায় দায়ের করা এ মামলায় আসামি করা হয়েছে শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টু, মিন্টুর দুই ভাই লাল্টু হোসেন ও পিন্টু হোসেন, আব্দুস সালামের দুই ছেলে সুজন হোসেন ও সবুজ হোসেন এবং মৃত আলাউদ্দীনের ছেলে টিটন হোসেনকে।

তবে মিন্টু বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে বিএনপির একটি পক্ষ তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। অপর পক্ষের দাবি, ৫ আগস্টের পর থেকে থানার ওসি, দারোগাসহ গ্রামের বিভিন্ন নিরীহ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের এলাকা ছাড়া করেছে মিন্টু বাহিনী। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক দখল করে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। উপজেলা সংলগ্ন এ গ্রামটিতে যখন-তখন মব সৃষ্টি করে ত্রাসের রাজত্ব চালাচ্ছে মিন্টুর লোকজন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন পুলিশ সদস্য মামুন হাসান। গত ২৯ মে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোটরসাইকেলে করে শার্শা বাজারে যাওয়ার পথে শ্যামলাগাছি গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তার গতিরোধ করেন। পূর্ববিরোধের জেরে তারা তাকে গালিগালাজ করতে থাকেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিবাদ করলে মোস্তফা কামাল মিন্টুর নির্দেশে অন্য আসামিরা মামুন হাসানকে মারধর শুরু করেন। এ সময় মিন্টু লোহার পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে বাম হাত ও বৃদ্ধাঙ্গুলিতে আহত হন। পরে মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে লোহার পাইপ, কোদাল ও লোহার রড দিয়ে তার দুই পায়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মাথা ও দুই হাঁটুতে গুরুতর জখম হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামুন হাসানকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ফুফা আব্দুর বারীককেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া হামলার সময় টিটন হোসেন আহত পুলিশ সদস্যের পকেটে থাকা ৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসা ও পারিবারিক পরামর্শ শেষে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টু বলেন, তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। পুলিশ সদস্যের পরিবারের অন্য সদস্যরা ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এলাকার ত্রাস ছিলেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় প্রথমে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। সেখানে তার নাম ছিল না। পরে একই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, যা পরিকল্পিত।

মিন্টু দাবি করেন, তিনি শার্শা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। এর জেরেই স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপ রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে এ মামলা করেছে।

এ বিষয়ে যশোরের ‘ক’ নাভারণ সার্কেলের সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন জানান, মারধরের শিকার মামুন হাসান একজন পুলিশ সদস্য। ছুটিতে বাড়িতে এলে পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে ও তার স্বজনদের মারধর করা হয়। মামলার পর মিন্টুকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়। সঙ্গে ডিবির একটি টিমও ছিল। কিন্তু সেখানে মব সৃষ্টি করা হয়। এ কারণে মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, মারধরের অভিযোগের ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সত্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। যেকোনো অপরাধমূলক কাজের বিরুদ্ধে তাদের দল জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
পুলিশ সদস্যকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে চরম দুর্ভোগ: পুশ ইনের চেষ্টায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন ১০ নারী-শিশু-পুরুষের

পুলিশ সদস্যকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: ০২:৩৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

যশোরের শার্শায় এক পুলিশ সদস্যকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্য মামুন হাসান ট্যুরিস্ট পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকায় নায়েক পদে কর্মরত।

মামলাটি করেছেন তার ছোট ভাই মেহেদী হাসান রয়েল। গত ৪ জুন শার্শা থানায় দায়ের করা এ মামলায় আসামি করা হয়েছে শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টু, মিন্টুর দুই ভাই লাল্টু হোসেন ও পিন্টু হোসেন, আব্দুস সালামের দুই ছেলে সুজন হোসেন ও সবুজ হোসেন এবং মৃত আলাউদ্দীনের ছেলে টিটন হোসেনকে।

তবে মিন্টু বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে বিএনপির একটি পক্ষ তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। অপর পক্ষের দাবি, ৫ আগস্টের পর থেকে থানার ওসি, দারোগাসহ গ্রামের বিভিন্ন নিরীহ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের এলাকা ছাড়া করেছে মিন্টু বাহিনী। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক দখল করে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। উপজেলা সংলগ্ন এ গ্রামটিতে যখন-তখন মব সৃষ্টি করে ত্রাসের রাজত্ব চালাচ্ছে মিন্টুর লোকজন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন পুলিশ সদস্য মামুন হাসান। গত ২৯ মে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোটরসাইকেলে করে শার্শা বাজারে যাওয়ার পথে শ্যামলাগাছি গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তার গতিরোধ করেন। পূর্ববিরোধের জেরে তারা তাকে গালিগালাজ করতে থাকেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিবাদ করলে মোস্তফা কামাল মিন্টুর নির্দেশে অন্য আসামিরা মামুন হাসানকে মারধর শুরু করেন। এ সময় মিন্টু লোহার পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে বাম হাত ও বৃদ্ধাঙ্গুলিতে আহত হন। পরে মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে লোহার পাইপ, কোদাল ও লোহার রড দিয়ে তার দুই পায়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মাথা ও দুই হাঁটুতে গুরুতর জখম হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামুন হাসানকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ফুফা আব্দুর বারীককেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া হামলার সময় টিটন হোসেন আহত পুলিশ সদস্যের পকেটে থাকা ৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসা ও পারিবারিক পরামর্শ শেষে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টু বলেন, তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। পুলিশ সদস্যের পরিবারের অন্য সদস্যরা ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এলাকার ত্রাস ছিলেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় প্রথমে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। সেখানে তার নাম ছিল না। পরে একই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, যা পরিকল্পিত।

মিন্টু দাবি করেন, তিনি শার্শা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। এর জেরেই স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপ রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে এ মামলা করেছে।

এ বিষয়ে যশোরের ‘ক’ নাভারণ সার্কেলের সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন জানান, মারধরের শিকার মামুন হাসান একজন পুলিশ সদস্য। ছুটিতে বাড়িতে এলে পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে ও তার স্বজনদের মারধর করা হয়। মামলার পর মিন্টুকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়। সঙ্গে ডিবির একটি টিমও ছিল। কিন্তু সেখানে মব সৃষ্টি করা হয়। এ কারণে মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, মারধরের অভিযোগের ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সত্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। যেকোনো অপরাধমূলক কাজের বিরুদ্ধে তাদের দল জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
পুলিশ সদস্যকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা