এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের তিন গবেষক। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট প্রকাশিত ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ বিজ্ঞানী মারজানা আক্তার, আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়ক।
কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তালিকায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী শিমন সাকাগুচি, রসায়নে নোবেলজয়ী সুসুমু কিতাগাওয়া এবং আবেল পুরস্কারজয়ী গণিতবিদ মাসাকি কাশিওয়ারার মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানীরাও স্থান পেয়েছেন।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার অর্জন এবং একাডেমিক বা শিল্প খাতে নেতৃত্বের ভিত্তিতে নির্বাচিত বিজ্ঞানীদের ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০ অনারি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন তরুণ গবেষক মারজানা আক্তার। তিনি শুধু তালিকায় স্থানই পাননি, বরং চলতি বছরের নির্বাচিত বিজ্ঞানীদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ গবেষক হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী দেশের পোলট্রি খাতে প্রথমবারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাইরাস শনাক্ত করে ভাইরোলজি গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।
আন্তর্জাতিক পরিসরেও নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন মারজানা। ২০২৫ সালে বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্য থেকে নির্বাচিত মাত্র ১০ জন তরুণীর একজন হিসেবে তিনি জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ‘ইয়াং উইমেন ফর বায়োসিকিউরিটি ফেলোশিপ’ অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি বায়োসিকিউরিটি, বায়োসেফটি এবং সায়েন্স ডিপ্লোম্যাসি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করছেন।
মারজানার সাফল্যের পেছনে রয়েছে অনুপ্রেরণাদায়ক সংগ্রামের গল্প। মাস্টার্স অধ্যয়নকালে গর্ভাবস্থার মধ্যেও তিনি গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যান। শারীরিক জটিলতায় আইসিইউতে ভর্তি হতে হলেও সন্তান জন্মের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সফলভাবে থিসিস ডিফেন্ড করে শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন করেন।
তালিকায় স্থান পাওয়া আরেক বাংলাদেশি গবেষক ড. তাহমিদ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্য খাতে কাজ করছেন। মা ও শিশুর পুষ্টি, শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং ডায়রিয়া প্রতিরোধে তার গবেষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে তিনি আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রযুক্তিতে অবদানের জন্য স্বীকৃতি পেয়েছেন বুটেক্সের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়ক। টেক্সটাইল শিল্পে কার্বন নিঃসরণ কমানো, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন তার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র।
তার প্রতিষ্ঠিত ‘ডিকার্বোনাইজেশন ল্যাব’-এ বর্তমানে কম ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে কাপড়ে রং করার সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণা চলছে। বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান অঙ্গনে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
kalprakash.com/SS
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক 




















