রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন বাসাবো এলাকার রাজারবাগ কালীবাড়ি সংলগ্ন ঝিলপাড়ে নির্মাণাধীন সড়কের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। এতে পাশের দুটি পরিবারের বসতবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ ২০২৬) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১০২৩ হোল্ডিংয়ের ঝিলপাড় এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে সড়ক সম্প্রসারণ কাজ চলছিল। হঠাৎ করেই সড়কের একটি বিশাল অংশ দেবে যায়। ধসে পড়া স্থানে ওয়াসার পানির পাইপ থেকে অবিরাম পানি বের হতে দেখা যায়। স্থানীয় শ্রমিকরা আশপাশের লোকজনের সহায়তায় পানির লিকেজ বন্ধের চেষ্টা চালান।
ধসের ফলে সড়কের পাশেই অবস্থিত মৃত হাসমত উল্লাহর ওয়ারিশদের বসতবাড়ির ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়ে। বাড়ির একাংশ ঝিলের দিকে দেবে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য তাহেরা আক্তার জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই পৈতৃক বাড়িতে বসবাস করছেন। পূর্বে সেখানে একটি সরু রাস্তা ছিল। সিটি কর্পোরেশন রাস্তা প্রশস্ত করার উদ্যোগ নিলেও যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা পাইলিং পদ্ধতি অনুসরণ না করে মাটি ভরাটের কাজ করায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। হঠাৎ রাস্তাটি ধসে পড়ায় চার বোন ও তিন ভাইয়ের পৈতৃক বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী হাবীবুর রশিদের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
ঘটনার বিষয়ে ডিএসসিসির অঞ্চল-৭ এর নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া জানান, সড়কের মাটি ধসে যাওয়ার মূল কারণ ওয়াসা লাইনের লিকেজ। লিকেজ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি বের হয়ে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ধসের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ওয়াসাকে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা মেরামতের কাজ শুরু করেছে।
ডিএসসিসির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অবকাঠামোগত ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির দায় নির্ধারণ করে ওয়াসার কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি জানিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হবে।
রাস্তার কাজে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলী মো. মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিস্তারিত তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রদান করবেন।
অন্যদিকে, প্রকৃত কারণ জানতে ওয়াসার সাইট ইঞ্জিনিয়ার ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইকবাল মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক ও ড্রেনেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব প্রকট। অপরিকল্পিত খনন ও যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন ঘটনা ঘটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বড় ধরনের জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিরাপদ আশ্রয় ও দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে।
বিশেষ প্রতিনিধি 











