পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (পিজিসিসি)ভুক্ত আরব দেশগুলো মারাত্মক পানি সংকটের মুখে পড়ছে বলে নতুন বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে। চরম শুষ্ক জলবায়ু এবং স্থায়ী নদীর অনুপস্থিতির কারণে এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক পানির উৎস দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি পিজিসিসি দেশের মোট নবায়নযোগ্য পানি (ভূগর্ভস্থ ও ভূপৃষ্ঠের উৎস) বছরে প্রায় ৪.১৪ বিলিয়ন ঘনমিটার, যা বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত সীমিত। খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এই অঞ্চলকে ইতোমধ্যেই ‘চরম পানি সংকট’ এলাকা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়, ওমান, সৌদি আরব, বাহরাইন ও কাতারের মতো দেশগুলোতে মাথাপিছু পানির প্রাপ্যতা অত্যন্ত কম—কিছু ক্ষেত্রে তা মাত্র কয়েক দশক ঘনমিটারে নেমে এসেছে, যা টেকসই চাহিদার তুলনায় উদ্বেগজনক।
অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে প্রাচীন জলাধারগুলো ধীরে ধীরে লবণাক্ত হয়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। ফলে দেশগুলোকে সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে।
বর্তমানে এই অঞ্চলে হাজারেরও বেশি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্র রয়েছে, যা বিশ্বের মোট উৎপাদন ক্ষমতার বড় একটি অংশ জোগান দিচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রতিবেদনে ইরানের সঙ্গে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার তুলনা টেনে বলা হয়, দেশটির স্বাভাবিক পানির উৎস ও নদীনির্ভর ব্যবস্থার কারণে লবণমুক্তকরণের ওপর নির্ভরতা তুলনামূলকভাবে কম। ইরান প্রতিদিন প্রায় ১.৭ মিলিয়ন ঘনমিটার লবণমুক্ত পানি উৎপাদন করে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পানি সংকট ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের অর্থনীতি, কৃষি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
kalprakash.com/SS
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 





















